ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলাদেশে ভোট যুদ্ধ। পদ্মাপাড়ে নির্বাচনের আগে টালমাটাল পরিস্থিতি। সেই আবহেই লন্ডনে ১৭ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসনে ইতি টেনে ঢাকায় ফিরেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দেশে ফিরতেই তৎপর হয়েছে বিএনপি বিরোধিরা। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার জন্য আলোচনা শুরু করল এনসিপি এবং জামাত।
বৃহস্পতিবার রাতে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তাঁদের দলের সঙ্গে এনসিপি-র আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। জামাতের কাছে ৫০টি আসনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। এনসিপির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি এবং জামাতের আবদুল্লা মহম্মদ তাহের আলোচনার মাধ্যমে এই রফা চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে আবার বৃহস্পতিবার ‘কট্টর জামাত বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত এনসিপি নেতা মীর আরশাদুল হক দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে জামাত এনসিপি জোট হবে না এককভাবে লড়বে তা নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছিল বিস্তর। গত ২৮ অক্টোবর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে জামাতের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারেন তাঁরা। কিন্তু ৫ নভেম্বর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৩০০ আসনের সব ক’টিতেই লড়ার বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, এককভাবে লড়বেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে জামাত ও এনসিপি-র মতের মিল দেখা যাচ্ছিল। এই দুই দলকে রাজনৈতিক জোট হিসেবে দেখছিল ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু ছন্দপতন হয়, জুলাই সনদে সই করা না করা নিয়ে। সূত্রের খবর, এনসিপি নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিলেন, আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা না পেলে জামাত জুলাই সনদে সই করবে না। এনসিপি সই না করার ব্যাপারে অনড় থাকলেও জামাত সনদে স্বাক্ষর করে। এর পরে এনসিপি নেতাদের একাংশ জামাতের সমালোচনা করছেন। কিন্তু তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরতে, বিএনপি-কে ঠেকাতে এই দু’দল শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতার পথে হাঁটবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
