ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতের মানচিত্র ভুলভাবে প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই সভায় উপস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। তাঁর এই আপত্তির জেরে কিছুক্ষণের জন্য অনুষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘রিবিল্ডিং ট্রাস্ট, রিনিউয়িং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন: পাথওয়েজ ফর রিভাইটালাইজিং সার্ক’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনায় কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তাঁর উপস্থাপনার সময় একটি মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়। এই মানচিত্র প্রদর্শিত হওয়ার পরই সভায় উপস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পূজা কুমারী ঝা আপত্তি জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রদর্শিত মানচিত্রটি তথ্যগতভাবে ভুল এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ এবং আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে ভারতের ভূখণ্ডকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানচিত্রটি সংশোধনেরও দাবি জানান।
ভারতীয় কূটনীতিকের আপত্তির পর অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের জন্য আলোচনা থমকে যায়। পরে আহমেদ তারিক করিম বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত মানচিত্রটি শুধুমাত্র একটি গ্রাফিক্যাল বা ব্যাখ্যামূলক উপস্থাপনা ছিল। এটি কোনও দেশের সরকারি অবস্থান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখাকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ভারতীয় প্রতিনিধি এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেননি এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার কথা জানান।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে আসছে। ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে এই ইস্যুতে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে কোথাও ভারতের মানচিত্র ভুলভাবে উপস্থাপিত হলে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। প্রসঙ্গত ইরানে শান্তি চুক্তির সফল হওয়ার পর ইরানের সাধারণ মানুষ একটি ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে শান্তিচুক্তিতে সাহায্যকারী দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানায়। সেখানে ভারত এবং কাশ্মীরের নাম আলাদা আলাদা দেশ হিসাবে নেওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।