ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মূলস্রোতের বাইরে থাকা জামায়াত কেন এই মুহূর্তে এমন প্রস্তাব সামনে আনল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
জামায়াত নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, বিভাজন এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই একটি সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকারের প্রয়োজন। তাদের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি সব বড় রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে সরকার গঠন করে, তবে তা দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে এবং প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তারা দুর্নীতি দমন, ন্যায়ভিত্তিক শাসন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধনির্ভর রাজনীতির কথাও তুলে ধরেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে কৌশলগত হিসাব। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত বুঝতে পারছে যে এককভাবে বা সীমিত আসন জিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। ফলে জাতীয় সরকারের ধারণা সামনে এনে তারা ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামোয় নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছে।
এদিকে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। দলের অন্দরমহলে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে সতর্ক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন মহলেও এই প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে এবং এটিকে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি আদৌ বাস্তব রূপ পাবে নাকি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দরকষাকষির কৌশল হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের উপর। তবে এই প্রস্তাব যে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
