ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা। খুব কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকাসহ দেশের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ রূপ নেয় সহিংসতায়। কিন্তু এসবের মধ্যে ফের হাসিনা সরকারকে তুষলেন বাংলাদেশে অন্তবর্তী সরকার।
হাদির মৃত্যুর পর বাংলদেশের অবস্থা ব্যপকভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ছবি সামনে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, তবু উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক সমাজের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না। শরিফ ওসমান হাদির পরিবারও প্রকাশ্যে দাবি করেছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর পিছনে অন্তবর্তী সরকারকে দোষ দিয়েছেন খোড ওসমান হাদির ভাই শারিফ ওমান হাদি। তাঁর কথায় আসন্ন নির্বাচন ভেস্তে দিতেই এই কাজ করিয়েছে ইউনূস সরকার।
দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তির পাশাপাশি বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে একে অপরের কূটনীতিকদের তলব করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই তুলে ধরছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে একাধিক ভারতীয় ভিসা পরিষেবা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্থাপনাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন।
এই অস্থিরতার আবহে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠে আসছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতের বিভিন্ন মহলে এই ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় অশান্তির এই আবহ ভোট প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
