ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের বাজারে ইলিশের দাম হঠাৎই পড়তে শুরু করায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে। দুর্গাপুজোর আগে প্রতিবছরের মতোই বাংলাদেশ সরকার বিশেষ অনুমতিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করার ছাড়পত্র দিয়েছে। এ বছর মোট ১,২০০ টন ইলিশ পাঠানোর অনুমতি মিলেছে। কিন্তু বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে দ্বিধায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এত কম দামে রপ্তানি করলে লোকসান গুনতে হবে, ফলে অনেকে রপ্তানিতে এগোতে চাইছেন না।
বাংলাদেশ সরকার প্রতিকেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১২.৫ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১,১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে নদীতে বড় আকারের ইলিশের জোগান কম থাকায় সেই দামে পর্যাপ্ত মাছ ধরা যাচ্ছে না। এর ফলে বাজারে রপ্তানিযোগ্য মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতে প্রথম দফায় আসা ইলিশের নিলাম হলেও খুচরো দরে দাম খুব বেশি থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ কম দেখা গেছে। পাইকারি বাজার থেকে ইলিশ বিক্রি হলেও খুচরো ক্রেতারা দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, একদিকে রপ্তানির কাগজপত্র, শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে খুচরো দামে দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভারতীয় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি না হলে তাদের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই অনেকে রপ্তানির বরাদ্দ পূরণ করতে চাইছেন না। প্রথম চালানে যতটা ইলিশ এসেছে, তা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। ২০১৯ সালের পর এ বছরই সবচেয়ে কম ইলিশ ভারতের বাজারে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, রপ্তানির জন্য যে স্বল্প সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, তাতে নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে সরকার অনুমোদন দিলেও কার্যত পুরো পরিমাণ ইলিশ ভারতে পৌঁছায় না। তাছাড়া নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় বাজারে অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভারতের বাজারেও প্রভাব স্পষ্ট। কলকাতার পাইকারি বাজারে ইলিশ উঠলেও দাম কমেনি, বরং ক্রেতাদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, গঙ্গার শহর ধীরে ধীরে পদ্মার ইলিশের স্বাদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বাংলাদেশি ইলিশের আলাদা কদর থাকলেও দামের কারণে ক্রেতারা পিছিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ নিয়ে যে উৎসবমুখরতা তৈরি হয়, তা এ বছর অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির কোটার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস তৈরি হলেও বাজারে ইলিশের জোগান ও দামের বাস্তবতা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তুলেছে। ফলে নির্ধারিত কোটার পুরোটা ইলিশ এ বছর ভারতে পৌঁছবে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
