নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অমিত শাহের বৈঠকে ডাক পেলেন বঙ্গ বিজেপির সর্বকালের সফলতম সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অবশেষে কী বরফ গলল ! শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে দিলীপ ঘোষের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা কী কমতে চলেছে ? বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, অমিত শাহ দিলীপ ঘোষকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে বঙ্গ বিজেপির কুর্শিতে বসেই প্রবীন নবীনদের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ খুব একটা যে ফলপ্রসূ হয়েছে তার কোনো নজির মেলেনি। এবার কলকাতায় অমিত শাহ্-এর বৈঠকে দিলীপ ঘোষ আমন্ত্রণ পাওয়ায় ফের সেই সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, অমিত শাহের স্পষ্ট বার্তা তৃণমূলকে ৩৬০ ডিগ্রি আক্রমণ করতে হবে। তার জন্য দলের মূল সংগঠন, শাখা সংগঠন, সবাইকে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েচ হেন অমিত শাহ্। তাঁর সাফ কথা, কোনও ঢিলেমি বা গাছাড়া মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না। সকলে মিলে মিশে একজোটে হয়ে বাংলা জয় করতে ঝাপাঁতে হবে। তিন দিনের বঙ্গ সফরে এসে এমনই বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে রুখতে অস্ত্রও ঠিক করে দিয়েছেন শাহ। বলেন, “এপ্রিলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। দুর্নীতি, অপশাসন, কুশাসন, অনুপ্রবেশকারী সব নিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”
প্রসঙ্গত,চলতি মাসে ন্যাশনাল ল্যাইব্রেরিতে গেরুয়া শিবিরের পুরনো কর্মীদের মেলবন্ধনের সভাতেও উপেক্ষিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। যদিও দিলীপ ঘোষ তার ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছিলে। তাকে বিজেপির কল সেন্টার মারফত ডাকা হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি দিলীপ ঘোষ।
এখনও বঙ্গ বিজেপিতে কান পাতলে শোনা যায়, দিলীপ-শুভেন্দুর ঠান্ডা লড়াইয়ের কথা। এমনকি দিলীপ ঘোষ একাধিকবার ঠারে ঠোরে সেই কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি দিলীপ ঘোষের এই কোনঠাসা থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ ও খোলেন। তাঁর দাবি, দিলীপ ঘোষের মধ্যে আগুন আছে। বিয়ে করতেই পারে। এই মন্তব্যের পর যদিও দিলীপ ঘোষ স্বয়ং মুখ খোলেন নি।
অনেকে বলছেন, শাহ-সংঘের বৈঠকের পর দিলীপ জট আলগা হয়। অমিত শাহের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের আমন্ত্রণের পিছনে আরএসএস-এর হস্তক্ষেপ রয়েছ বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও শমীক ভট্টাচার্য ‘রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সল্টলেকের পাটি অফিসে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলে দিলীপ ঘোষ। তবে তাতে বিশেষ কোনো কাজ হয়েছে বলে তার কোনো নজির মেলেনি।
বিজেপির অনেক নেতার দাবি, দিলীপ ঘোষকে দূরে সরিয়ে রেখে “ঐক্যবদ্ধ বঙ্গ বিজেপি” কার্যত অসম্ভব। এখনও দলের বহু নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে দেলীপের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তা ছাড়া দিলীপ ঘোষকে হাতিয়ার করে “ঐক্যবদ্ধ বিজেপি স্লোগান”কে নিশানা করছিল তৃণমূল। জোড়াফুলের হাত থেকে সেই অস্ত্র কেড়ে নিতে হলে দিলীপকে সঙ্গে না নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এখন দেখার, অমিত শাহের সভায় জায়গা পেলেও ছাব্বিশে বঙ্গ বিজেপি দিলীপ ঘোষকে দলের কাজে নিচ্ছে কি না।
