অরুপ পোদ্দার, শিলিগুড়ি: পুজোর আগে চা শ্রমিকদের মুখে হাসি। সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন একাধিক চা বাগানে শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বোনাস। ইতিমধ্যেই মোহরগাঁও গুলমা চা বাগানে শ্রমিকদের হাতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বোনাস তুলে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। গত বছরের মতো চলতি বছরও শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছে বলে বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে উৎসবের মরশুমে আনন্দের হাসি ফুটেছে শ্রমিক পরিবারের মুখে।
বছরের অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপুজো। তাই ছোট থেকে বড়, প্রত্যেকেই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখেন। কিন্তু আর্থিক দুরবস্থা আনন্দের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় পুজোর আগে মাসিক বেতনের সঙ্গে বোনাস মেলায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন চা বাগানের শ্রমিকরা। তাঁদের একাংশের কথায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই এবার বোনাস পেয়েছেন তাঁরা। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও পরিবারের জন্য বাড়তি কেনাকাটা এবার নির্বিঘ্নে করতে পারবেন শ্রমিক পরিবার।
অন্যদিকে বদলের বাংলায় চা শ্রমিকদের বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের পরই বিভিন্ন চা বাগানে বোনাস প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সূত্রেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন মোহরগাঁও গুলমা চা বাগানেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শ্রমিকদের হাতে বোনাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বাগান সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহরগাঁও গুলমা চা বাগানে প্রায় ৩,০০০ শ্রমিক রয়েছেন। প্রত্যেকের জন্য ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের মতো চলতি বছরও একই হারে বোনাস প্রদান করা হয়েছে। মোহরগাঁও গুলমা চা বাগানের ম্যানেজার দেবজ্যোতি কর গুহ বলেন, গত বছরের মতো চলতি বছরও শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়েছে। বাগানে প্রায় ৩,০০০ শ্রমিক রয়েছেন। পুজোর আগে বোনাস হাতে পেয়ে শ্রমিকরা খুশি। একইসঙ্গে বাগান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।