ওঙ্কার ডেস্ক: বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে বাংলাভাষীদের উপর হয়ে আসা অত্যাচারের বিরুদ্ধে ৮ আগস্ট, শুক্রবার দিল্লিতে সংসদের সামনে বিক্ষোভ জানিয়েছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় সহ অনান্য কংগ্রেস নেতা বৃন্দরা। বাংলা ও বাঙ্গালীদের অপমান আর সহ্য করা হবে না বলে দাবি তোলেন তাঁরা।
তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস ও আরও কয়েকটি বিরোধী দলের সাংসদ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগও উঠে আসে। বিশেষত বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘SIR’–কে ব্যঙ্গ করে বলেন, “সাইলেন্স ইনভিজিবল রিগিং।” তৃণমূলের হাতে থাকা পোস্টার ও স্লোগানে সরাসরি আক্রমণ শানানো হয় “নির্বাচন কমিশন হায় হায়” এবং “নির্বাচন কমিশন লজ্জা।” দোলা সেন, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়ারা স্লোগানে গলা মেলান।
বিক্ষোভের আগের রাতে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নৈশভোজে রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকে রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন। সূত্রের খবর, সেখানে SIR প্রসঙ্গের পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর আক্রমণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। দিল্লি পুলিশের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হলে রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মালব্য সেই বিজ্ঞপ্তির সমর্থনে দাবি করেন, “বাংলা বলে কোনও ভাষাই নেই, বাঙালি বলতে জাতিসত্ত্বাকে বোঝায়।” তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলা ভাষার অপমান মানে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান, আর সেটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। শুক্রবারের বিক্ষোভে বিরোধী শিবিরের বার্তা ছিল স্পষ্ট ভাষা, সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত মেনে নেওয়া হবে না, এবং বিজেপি নির্বাচন কমিশনের আঁতাতের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
