ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুণেতে কাজে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল উত্তরবঙ্গের এক যুবকের। মৃতের নাম দীপু দাস (২৮)। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা দীপু জীবিকার তাগিদে পাড়ি দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রে। কিন্তু তার বদলে ফিরল মৃত্যু সংবাদ, আর মোবাইলে এল এক রক্তমাখা ছবি যা দেখেই চমকে উঠেছে পরিবার। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে দীপুকে।
দীপুর ভাই অপু দাস জানান, সম্প্রতি তাঁদের মা শীলা সরকার দাস লিভারের অসুখে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। মা মারা যাওয়ার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার পুণে থেকে এক ঠিকাদার ফোন করে জানান, দীপুর দুর্ঘটনা ঘটেছে, তিনি হাসপাতালে ভর্তি। ঠিকাদার অবশ্য কী দুর্ঘটনা, কোথায় বা কীভাবে তা ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি। এর পর বুধবার ওই ঠিকাদারই ফের ফোন করে পরিবারকে জানান, দীপু মারা গিয়েছেন। তারপরেই মোবাইলে আসে এক ভয়াবহ ছবি যেখানে দীপুর গলায় ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। সেই ছবি দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ভাই অপু বলেন, “দুর্ঘটনা হলে হাত, পা, মাথায় চোট লাগে। কিন্তু দাদার গলায় যা দাগ দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ওকে খুন করা হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত চাই”।
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর বলেন, “গোটা বিষয়টি শুনেছি। প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলেছি। আমার একটাই সন্দেহ বাংলা ভাষা বলার জন্যই হয়তো দীপুকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে ওইসব রাজ্যে। আমি এর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছি।” তবে এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসেনি বলে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দাস পরিবার।
দীপুর দেহ রাজ্যে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য পরিবারের নেই। ফলে সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তাঁরা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুণে পুলিশের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিংহ জানিয়েছেন, “আমরা ওই শ্রমিকের পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্য করছি। একজন অফিসারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবার কোনও অসুবিধায় না পড়ে”।
