ওঙ্কার ডেস্ক: বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বিভাস অধিকারী ফের শিরোনামে। তবে এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি নয়, ধরা পড়লেন এক ভিন্ন প্রতারণা মামলায়। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো ‘থানা’ খুলে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন তিনি ও তাঁর সহযোগীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়ডার সেক্টর ৭০-এর বিএস-১৩৬ নম্বর ভবনে “ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো” নামে একটি অফিস খুলে নিজেদের সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিত অভিযুক্তরা। দেওয়ালে পুলিশি ভবনের মতো রং, নকল মন্ত্রকীয় সার্টিফিকেট, ইন্টারপোল, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন, ইউরেশিয়া পোল মত আন্তর্জাতিক সংস্থার নামে জাল নথি সব মিলিয়ে সাজানো ছিল একেবারে সরকারি দপ্তরের মতো পরিবেশ। এমনকী, ব্রিটেনে শাখা থাকার দাবিও করত চক্রটি।
রবিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গৌতমবুদ্ধ নগর পুলিশের দল হানা দিয়ে গ্রেফতার করে বিভাস অধিকারী-সহ মোট ছয়জনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ছেলে আরঘ্য অধিকারী (বি.এ. এলএলবি), বাবুল চন্দ্র মণ্ডল, পিন্টু পাল (২৭), সম্পদ মাল (২৯) এবং আশিস কুমার (৫৭)।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সরকারি কর্মচারী সেজে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান তুলত। প্রয়োজনে অনলাইনে নকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেটও দেখাত, যাতে শিকাররা সহজেই বিভ্রান্ত হয়। অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভুয়ো মানবাধিকার পরিচয়পত্র, প্রেস আইডি, অফিসিয়াল সিল, নকল মন্ত্রকীয় নথি, চেকবই, এটিএম কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, সাইনবোর্ড, মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪২,৩০০ টাকা।
ডিসিপি (সেন্ট্রাল নয়ডা) জানিয়েছেন, “আমরা একটি সুগঠিত প্রতারণা চক্র ধ্বংস করেছি। এরা পুলিশি চিহ্ন, নকল নথি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করত। গ্রেফতার হওয়া ছ’জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।” পুলিশের অনুমান, অফিস চালু হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই কয়েকজনকে টার্গেট করেছিল চক্রটি। তবে আরও ভুক্তভোগী ও সহযোগীর খোঁজ চলছে। আপাতত ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিভাস অধিকারীর নাম উঠে এসেছিল। একসময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছিলেন তিনি, এবং নলহাটিতে তাঁর মালিকানাধীন একটি বিএড কলেজ রয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। নিয়োগ মামলায় একাধিকবার ইডি ও সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করলেও গ্রেফতার হয়নি তিনি। পরে দল ছেড়ে ‘সর্বভারতীয় আর্য মহাসভা’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। কিন্তু এবার প্রতারণা মামলায় শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বীরভূমের এই বিতর্কিত নেতা।
