ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রে বাহুবলী নেতা অনন্ত সিংহের জয় বিহারের জলন্ত রাজনীতির প্রমাণ। জেলের ভেতর থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হওয়া, সেই অবস্থায়ও বিপুল ব্যবধানে জয় পাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি এক বিরল ঘটনা, কিন্তু বিহারে তা একদমই সাধারণ একটা ব্যাপার। ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই পরিষ্কার ছিল যে মোকামার মাটি আবারও তাদের বাহুবলী নেতার দিকেই ঝুঁকছে।
নির্বাচনের আগে অনন্ত সিং-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। এর আগেও একাধিক অপরাধ মূলক কাজে তাঁর নাম জরালেও তা কোন দিন তাঁর ভোটের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। বরং সমস্ত অভিযোগ নিজের জনপ্রীয়তা হিসাবে ব্যবহার করেছেন। প্রসঙ্গত বাহুবলী নেতার বিরুদ্ধে ভোটের পাঁচ দিক আগে জন সুরাজ পার্টির এক নেতার হত্যাকাণ্ডের মামলায় নাম জড়িয়েছিল। কিন্তু এসব কিছুই ভোটারদের সিদ্ধান্তে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। বরং বহু বছরের স্থানীয় প্রভাব, নিজের মতো করে সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা, এলাকায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এই সবই তাঁকে আরও একবার জয়ী করে বিহারে। মোকামার সাধারণ মানুষের কাছে বাহুবলী নেতা মানেই অনন্ত সিং। তাঁদের কাছে যায় আসে না অনন্ত কোন পার্টির প্রতিনিধিত্ব করছেন বা তাঁর বিরুদ্ধে কত গুলি অপরাধমূলক মামলা দায়ের হয়েছে। দিনের শেষে মোকমার মানুষ অনন্ত সিং-কেই বেছে নেবেন তা তিনিও খুব ভালো করেই জানেন।
মোকমা প্রদেশের এই ফল আসলে বিহারের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা, যাকে বিজেপি একসময় ‘জঙ্গলরাজ’ বলত। কিন্তু সেই বিজেপি জোটের হয়ে মোকমা কেন্দ্র থেকে লড়েছেন অনন্ত সিং। বিহার এমন এক রাজনৈতিক প্রাঙ্গন যেখানে প্রার্থীকে বিচার করা হয় শুধু দলীয় পরিচয় বা আইনি অবস্থার ভিত্তিতে না, বরং তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব, কাজ করার সক্ষমতা, পারিবারিক পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে। বহু বছর ধরে মোকামা কেন্দ্রকে নিজের মতো করে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগই অনন্ত সিং-কে এই পরিস্থিতিতেও এগিয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনন্ত সিং-এর এই বিপুল ভোটে জয় স্থানীয় ভোটারদের মানসিকতার বাস্তব রুপ দেখায়। এই ফলাফল স্পষ্ট দেখায় যে, বিহারের মানুষ আসলেই ‘জঙ্গলরাজ’-এ অভ্যস্ত। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে এনডিওএ –এর মত দল, যারা বরাবর লালু প্রাসাদ যাদবের সময়কালকে অশান্তির চরম অধ্যায় বলে এসেছেন এবং এই অধ্যায়ের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এখন সেই দলই অনন্ত সিং-কে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসাবে বিবেচনা করে। একাধিক গুরতর অপরাধমূলক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বারবার নির্বাচনে জেতা প্রমাণ করে, ভোটারের কাছে বাস্তব কাজ এবং ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ কখনও কখনও আইনের কড়াকড়িকে পিছনে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির স্থানীয় নেতাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরদের আসন সংখ্যা বাড়াতে মনোযোগী মাত্র।
