ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে মাঠে নামল বিজেপি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলটির পক্ষ থেকে তিন দফায় প্রকাশ করা হয়েছে প্রার্থীতালিকা। মোট ১০১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। এনডিএ জোটের সমঝোতা অনুযায়ী, বিজেপি ও জেডিইউ দুই দলই ১০১টি আসনে লড়বে। বাকি আসনগুলিতে লড়াই করবে জোটের অন্যান্য শরিকরা।
বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ১৬ জন বর্তমান বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই আসনগুলিতে নতুন মুখদের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, একাধিক জায়গায় স্থানীয় অসন্তোষ, কাজের নিরিখে মূল্যায়ন এবং সামাজিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ নজর কেড়েছেন জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী মৈথিলী ঠাকুর। তাঁকে দারভাঙা জেলার আলীগড় বিধানসভা আসন থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আধ্মাতিক মূলক সংগীতজগতে এক জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁর প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। বিজেপির ধারণা, মৈথিলীর জনপ্রিয়তা দলের পক্ষে ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকার পর শেষ দফায় মধ্যরাতে প্রকাশ করা হয় বাকি নামগুলি। তিন দফায় মোট ১০১ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশের পর কার্যত নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত দল। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খুব শিগগিরই রাজ্যে একাধিক জনসভা করবেন।
বিহার বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা, যাচাই এবং প্রচারের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমুখী ভাবনা ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের ভিত্তিতেই বিহারে ফের এনডিএ সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়েই লড়াই করছে দল। অন্যদিকে, মহাগঠবন্ধন শিবির বিজেপির প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পর থেকেই নতুন করে প্রচারে জোর দিয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তাপমাত্রা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
বিহার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হতেই মহাগঠবন্ধনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। বৃহস্পতিবার পাটনায় প্রার্থী সমাবেশে অংশ নিতে তিনি নিশানা করলেন আরজেডিকে। বললেন, এনডিএ সরকারের অধীনে ৫০ লক্ষেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে রাজ্যে। বিহারে যা উন্নয়ন হয়েছে তা এনডিএ সরকারের আমলেই ঘটেছে। তাঁর দাবি, বিহারের জনগণ চায় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করার জন্য পুনরায় এনডিএ সরকার আসুক। মহাজোট সম্পর্কে তিনি বলেন, কংগ্রেস, আরজেডি, অথবা অন্য দল যাই হোক না কেন, তাদের কোনো জোট নেই। অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। নির্বাচনের আগে তারা পরাজয় মেনে নিয়েছে এবং টিকিটও বণ্টন করতে পারছে না।
