ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। রেকর্ড ভোটদানের পরে গণনার অগ্রগতিতে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে দুই শিবিরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সকাল থেকে গণনা শুরু হওয়ার পরেই বিজেপি ও আরজেডি দু’পক্ষই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনডিএ মোট ১৩২ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে মহাগঠবন্ধন এগিয়ে ৬৫টি আসনে।
গণনার প্রথম কয়েক ঘণ্টা থেকেই বিজেপি স্থিতিশীল লিড ধরে রেখেছে। বর্তমানে বিজেপি একাই ৬৭ টি আসনে এগিয়ে। জেডিইউ ৬১ টি আসনে এগিয়ে থেকে এনডিএ-র সংখ্যা আরও শক্তিশালী করেছে। এলজিপি এবং আরএলএম দুটি ছোট দলই একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা এনডিএ-র সংখ্যা বৃদ্ধিতে সামান্য হলেও যোগ করেছে।
অন্যদিকে, মহাগঠবন্ধনের মূল ভরসা আরজেডি এগিয়ে ৫৭ টি আসনে, যা বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। কংগ্রেস এগিয়ে ৬ টি আসনে এবং সিপিআই ২ টি আসনে। এছাড়া আইআইপি একটি আসনে এগিয়ে থেকে জোটের আসন সংখ্যা বাড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ অগ্রগতি এসেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির থেকে, যারা ৪টি আসনে লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে যা বিহারের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ফলাফলের প্রেক্ষিতে ভোটদানের হার নিয়ে আগেই যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ বছর বিহারে ৬৭.১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষত মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের ধারণা, নারীদের এই বিপুল অংশগ্রহণই নির্বাচনের ফলের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নীতীশ কুমারের দীর্ঘদিনের নারী-কেন্দ্রিক নীতি পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ছাত্রীদের সাইকেল ও ইউনিফর্ম প্রকল্প এই ভোটের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-য় ১০,০০০ টাকার আশ্বাসও মহিলাদের বড় অংশকে আকর্ষণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেজস্বী যাদবের প্রচারে ‘মাই বহেন মান যোজনা’য় মহিলাদের ৩০,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুবসমাজ এবং নারী ভোটারদের কাছে সাড়া ফেলেছে। তাঁর দাবি, রেকর্ড ভোটদানের হারই দেখাচ্ছে বিহারের মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তন চাইছে।
তবে সংখ্যালঘু ভোট এবার বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে মতামত দীর্ঘদিন ধরেই। এনডিএ-র অংশ হয়ে থাকা এবং ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে সমর্থনের কারণে মুসলিম ভোট কিছুটা নীতীশ কুমারের বিপক্ষে যেতে পারে বলে অনুমান। এই প্রেক্ষিতে কিশনগঞ্জে ৭৮.১৬ শতাংশ ভোটদানের হার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি রাজ্যের সর্বাধিক মুসলিম অধ্যুষিত জেলা।
গণনা যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে বিহারের এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয় এটি নারী ভোট, সংখ্যালঘু ভোট এবং উন্নয়ন-কেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির এক জটিল সমীকরণ। এনডিএ কি এই লিড ধরে রাখতে পারবে, নাকি শেষ দফায় পাল্টে দেবে মহাগঠবন্ধন সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।
