ওঙ্কার ডেস্ক : বিজেপির নতুন কার্যকরী সভাপতি করা হল বিহারের মন্ত্রী নীতিন নবীনকে। রবিবার দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই মনোনয়নের কথা জানানো হয়েছে। যদি পুরোনো নজির অনুযায়ী বিজেপি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে বলা যায়, ২০২০ সাল থেকে দলের সভাপতি পদে জে পি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দাবিদার হয়ে উঠবেন নীতিন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, এক্ষেত্রে নবীন অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের এক অনন্য মিশ্রণ নিয়ে আসবেন। তাহলে ৪৫ বছর বয়সে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বিজেপি প্রধান হবেন। তবে ইতিমধ্যেই তিনি পাঁচবারের বিধায়ক হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব ভার সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে। তার উপর প্রবীণ বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পুত্র তিনি। দলের মধ্যে নীতিন নবীন অত্যন্ত সক্রিয়, গতিশীল এবং আদর্শবাদী বলে পরিচিত। তিনি যে সংগঠনের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সে কথাও স্বীকার করেন বিজেপির প্রথম সারিরি নেতারা।
নবীনের দুই দশকের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কৃতিত্বের সঙ্গে দলের যুব শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সঙ্গে ছত্তিশগড়ের নির্বাচন সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীন যথাসময়ে নাড্ডার পদে পা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নিয়োগ বিজেপির দক্ষ নেতৃত্বের প্রতি মনোনিবেশকে প্রতিফলিত করে এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি কেবল বিহার নয়, পূর্ব ভারতেরও প্রথম বিজেপি প্রধান, যা দলের পূর্ব দিকে দৃষ্টি আরোপেরও ইঙ্গিত দেয়।
৬৫ বছর বয়সী নাড্ডা ইতিমধ্যেই তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন। ২০২৩ সালেই তাঁকে সরিয়ে নতুন সভাপতি আনার কথা উঠেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বারবার তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
X-এর একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নবীনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “শ্রী নীতিন নবীন জী একজন পরিশ্রমী কার্যকর্তা হিসেবে নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। তিনি একজন তরুণ এবং পরিশ্রমী নেতা, যার সমৃদ্ধ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বিহারে একাধিক মেয়াদে বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে তার চিত্তাকর্ষক রেকর্ড রয়েছে”।
তিনি আরও বলেছেন, নবীন “জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অধ্যবসায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি তার নম্র স্বভাব এবং ভিত্তিগত কাজের ধরণে পরিচিত। আমি নিশ্চিত যে তাঁর শক্তি এবং নিষ্ঠা আগামী সময়ে আমাদের দলকে শক্তিশালী করবে। বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি হওয়ার জন্য তাঁকে অভিনন্দন।” দলের প্রধান কৌশলবিদ অমিত শাহ বলেছেন, যাঁরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন সেইসব তরুণ বিজেপি কর্মীর কাছে নবীনের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ একটি সম্মানের বিষয়।” তিনি আরও বলেছেন,
“বিজেপি যুব শাখার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, বিহারের যুব শাখার রাজ্য সভাপতি, অথবা ছত্তিশগড়ের রাজ্য ইনচার্জ হিসেবেই হোক না কেন, তিনি প্রতিটি সাংগঠনিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন। বিহারে পাঁচবার বিধায়ক এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর, জনগণের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
নবীন হলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার ছেলে। তিনি ২০০০ সালের শেষের দিকে রাজনীতিতে আসেন এবং ২০১০ সালে বাঁকিপুর থেকে প্রথম ভোটে লড়েন। এরপর এই নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, মন্ত্রী হিসেবে নবীনের মেয়াদ এবং ছত্তিশগড়ে দলের ইনচার্জ হিসেবে ভূমিকা সত্যিই অসাধারণ। বর্তমানে তিনি নীতিশ কুমার মন্ত্রিসভায় সড়ক নির্মাণ, নগর উন্নয়ন এবং আবাসন মন্ত্রী।
