ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কারতে তৎপর রাজনৈতক দল গুলি। বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের আকর্ষণ করতে একের পর এক নতুন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। মঙ্গলবার মহাগঠবন্ধনের তরফে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় এলে দেশীয় মদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হবে।
তেজস্বী যাদবের যুক্তি, ‘‘নিষিদ্ধকরণের ফলে বহু মানুষ যাদের জীবিকা দেশীয় মদ প্রস্তুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা আজ কার্যত কর্মহীন। সমাজের নির্দিষ্ট কয়েকটি জাতি ও শ্রেণি ঐতিহ্যগতভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের জীবিকা রক্ষার জন্যই নতুন করে ভাবতে হবে এই আইনের বিষয়ে।’’ তেজস্বীর দাবি, রাজ্যে সম্পূর্ণ মদের উপর নিষেধ জারি করার ফলে একদিকে যেমন অবৈধ মদের কারবার বেড়েছে, তেমনি রাজ্যের রাজকোশের ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক। তিনি আরও বলেন, ‘‘মদ নিষিদ্ধ করলেই সমাজ থেকে মদ্যপান বন্ধ হয় না। বরং বেআইনি ব্যবসা বাড়ে। তাই স্থানীয় পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা ও রাজ্যের আর্থিক ক্ষতির কথা মাথায় রেখেই দেশীয় মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা হবে।’’
রাজ্যে মাদকজাত দ্রব্যের উপর নিষেধাজ্ঞা সরানোর পাশাপাশি রাজ্যে সাংবাদিক মহলের জন্যও নানা প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েছেন তেজস্বী যাদব। তিনি জানিয়েছেন তাঁর সরকার ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের জন্য নতুন প্রেস ক্লাব চালু করা হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য হোস্টেরলের ব্যবস্থা করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে। তিনি আরও জানান, বৃদ্ধ পেনশন ভোক্তাদের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হবে। ট্র্যান্সফার পোষ্টিং সম্মন্ধে রিনি জানান, যে কোনো সরকারি কর্মচারিদের তাঁদের নিজস্ব বাস ভবন থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে চাকরি দেওয়া হবে। যারা দূরে রয়েছেন তাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ব্যবাস্থা করবে তাঁদের সুরকার বলেও আশ্বস্ত করেছেন তেজস্বী।
আরজেডি-এর সুপ্রিমোর এহন মন্তব্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে বিহার রাজনীতিতে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকার রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণ মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তখন থেকেই এই আইনকে ঘিরে বিতর্ক চলছেই। সমাজের একাংশ মনে করে, আইনটির কারণে মহিলাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে অসংখ্য পরিবার, যাদের জীবিকা ছিল তাড়ি বা দেশীয় মদ প্রস্তুতের উপর নির্ভরশীল, তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে তেজস্বী যাদব শুধু দেশীয় মদের বিষয়েই নয়, নারীদের উন্নয়ন ও ভোটার হিসেবে তাঁদের গুরুত্বের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, মহাগঠবন্ধন সরকার গঠিত হলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ‘জীবিকা দিদি’-দের মাসিক আরাই হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য আরও আর্থিক সাহায্য, স্বনির্ভর কর্মসূচি এবং ঋণমুক্তি প্রকল্পের আশ্বাস দেন তিনি। তবে বিরোধীরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি শুধু নির্বাচনী গিমিক মাত্র। নীতীশ কুমারের জেডিইউ–র এক মুখপাত্রের বক্তব্য, ‘‘মাদকজাত দ্রব্য নিষেধ বিহারের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এখন যদি সেটি তুলে নেওয়া হয়, তা রাজ্যকে আবার সেই পুরনো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে।’’ সব মিলিয়ে, তেজস্বী যাদবের এই নতুন প্রতিশ্রুতি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছে।
