ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে লালু প্রসাদ যাদব ও নীতীশ কুমারের সম্পর্ক যেন এক রাজনৈতিক উপাখ্যান। এক সময়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আজ তারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তবু তাঁদের সম্পর্কের রঙ মুছে যায়নি সম্পূর্ণভাবে। নব্বইয়ের দশকে সমাজবাদী আন্দোলনের তরঙ্গে একসঙ্গে উঠে এসেছিলেন দুই নেতা। লালু তখন রাজ্যের রাজনীতিতে ক্রমে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন, আর নীতীশ ছিলেন তাঁর অন্যতম সহযোগী। সে সময় উভয়ের লক্ষ্য ছিল জাতপাতভিত্তিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আনা।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারদ বদলাতে থাকে। লালুর ‘যাদব রাজনীতি’ এবং পারিবারিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নীতীশ ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করেন। শুরু হয় রাজনৈতিক মতভেদের, যার জের ধরে ভাঙন আসে তাঁদের বন্ধুত্বেও। একসময় যারা একই মঞ্চে ছিলেন, তারা পরবর্তীকালে ভিন্ন জোটে শিবির গড়ে তোলেন। রাজনীতির ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান লালু ও নীতীশ। তবে বিরোধের মাঝেও সম্পর্কের মানবিক দিক হারিয়ে যায়নি। একাধিকবার দেখা গেছে কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে বা রাজনৈতিক সম্মেলনে নীতীশ ও লালু পরস্পরকে সৌজন্য দেখিয়েছেন। রাজনীতির উত্তাপে দূরত্ব বাড়লেও, ব্যক্তিগত পরিসরে পুরনো সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থেকেছে।
২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের আলোচনায় এসেছে এই দুই নেতার সম্পর্ক। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমার এখন অন্যতম মুখ, তবে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, লালুপ্রসাদ যাদবের দল রাজদও নতুন কৌশলে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনীতির পালাবদলের এই পর্বে লালু-নীতীশ সম্পর্ক আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে বিহারের রাজনীতিতে। কখনও সহযোগী, কখনও প্রতিপক্ষ, এই দ্বৈত সম্পর্কই হয়তো বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় হয়ে উঠেছে। তাঁদের প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ আজও রাজ্যের ভোটারদের মনোযোগের কেন্দ্রে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
