ওঙ্কার ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণের একদিন আগে, বিহার পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বিনয় কুমার বুধবার বলেছেন, “রাজ্য জুড়ে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসন নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি বিহারের যুবকদের সক্রিয়ভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন বিনয় কুমার। বলেছেন, “নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমি বিহারের যুবকদের এগিয়ে আসার এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্যও আহ্বান জানাতে চাই।”
ডিজিপি সতর্ক করে দিয়েছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন হিংসা বা যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকা যে কেউ কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হবে। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ হিংসা বা অবাঞ্ছিত কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তবে তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। এই ধরণের সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” তরুণ ভোটারদের তিনি অসামাজিক বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি তরুণদের অনুরোধ করছি যারা শান্তি বিঘ্নিত করতে চায় তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করুন। প্রশাসন জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ভোট দেওয়ার সময় যদি কেউ কোনও সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে তারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে আমাদের হেল্পলাইন নম্বরগুলি জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে।”
আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ডিজিপি বলেন, “আদর্শ আচরণবিধি সকলের জানা। যদি কেউ এটি অমান্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পুরো পুলিশ এবং প্রশাসনিক দল এর কঠোর ভাবে তা বাস্তবায়িত করার জন্য বদ্ধপরিকর।”
পুলিশের গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে কুমার বলেন, “যদি কেউ অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে বা হিংসায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের প্রতিরোধমূলক আটক আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি বন্ডে সই করার পরেই ছেড়ে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র এই বছরই এই ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অধীনে প্রায় দুই লক্ষ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “এর আগে, নির্বাচনের দুটি পর্যায়ের জন্য ১,৫০০ কোম্পানি নিরাপত্তা কর্মী বরাদ্দ করা হয়েছিল। গত ছয় থেকে সাত দিনে, অতিরিক্ত ১৫০ কোম্পানি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন হচ্ছে এমন জেলাগুলিতে। ডায়াল ১১২ জরুরি পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে কার্যকর থাকবে এবং যে কোনও সমস্যার সম্মুখীন নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেলগুলিও ভুল তথ্য ট্র্যাক এবং প্রতিরোধ করার জন্য সক্রিয় রয়েছে”। ডিজিপি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন সম্পর্কিত অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিনয় কুমার জানিয়েছেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত যে কেউ আইনের আওতায় পড়বে। গত ২৫ থেকে ৩০ দিনে প্রায় ৮০০ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করব যে তাদের মামলাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং দুই মাসের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। ভারতের নির্বাচন কমিশনও নির্দেশ দিয়েছে যে এই ধরনের মামলাগুলিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের প্রতি ফের আবেদন জানিয়েছেন, “আমি রাজ্যের প্রতিটি ভোটারের কাছে আবেদন করছি যে তারা নির্ভয়ে ভোট দিতে বেরিয়ে আসুন। বিহার গণতন্ত্রের জননী, এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি কেউ অসামাজিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে, তাদের অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত। যারা শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে বা সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, কিছু অশান্তির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে এবং সিআইডি তাদের তদন্ত করছে। বিনয় কুমার সতর্ক করে দিয়েছেন, “ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে এই ধরণের অসামাজিক কাজকর্ম চিহ্নিত করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর তাদের জেলে পাঠানো হবে। যারা অস্ত্রের অপব্যবহার করবে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। যদি কেউ মনে করে যে এই ধরণের কাজে লিপ্ত হয়ে তারা পার পেয়ে যাবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে।” বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ দুটি ধাপে হচ্ছে। ৬ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বর, এবং গণনা ১৪ নভেম্বর। ভারতের নির্বাচন কমিশন ২৪৩ সদস্যের বিধানসভার তফসিল ঘোষণা করার পর, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। প্রথম ধাপে ১২১টি আসনে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
