নিজস্ব প্রতিনিধি, বিষ্ণুপুর : এ যেন অকাল বোধনে’র অকাল বোধন। যখন সবাই চারদিকে কালী শক্তির আরাধনা ও আলোর উৎসবে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই এক প্রকার নিঃশব্দেই দেবী দুর্গার আরাধনা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পাটরাপাড়ার রক্ষিত পরিবারে।
গত ২০০ বছরেরও বেশী সময় ধরে এখানে দীপান্বিতা অমাবস্যায় শুরু হয় দেবী দুর্গার বোধন। মা এখানে অসুরদলনী নন, নন সিংহবাহিনীও। এই সময় এখানে তিনি ঘরের মেয়ে উমা। লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ আর শিব সহ দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন এখানে। শারদীয়া দুর্গোৎসবের মতোই এই সময় এখানে টানা চার দিন পুজো হয়। শুরুর দিন চাল কুমড়ো বলি প্রথাও চালু আছে রক্ষিত বাড়ির পুজোতে। রক্ষিত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে তাঁদের বংশের কোনো এক সদস্যাকে দেবী দুর্গা স্বপ্নাদেশ দেন। যেখানে দেবী দুর্গা, শিব সহ লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তি তৈরী করে পুজোর নির্দেশ পান।
২০০ বছর পূর্বে রক্ষিত পরিবারের পূর্ব পুরুষদের রেশম গুটির ব্যবসা ছিল পুরুলিয়াতে। জঙ্গল থেকে তসরের এই গুটি সংগ্রহ করতেন রক্ষিত পরিবারের তৎকালীন সদস্যরা। একদিন রক্ষিত পরিবারের কোন এক পূর্বপুরুষ গুটি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন গভীর জঙ্গলে। একসময় ক্লান্ত হয়ে সেখানেই একটি গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়েন। তখন দেবী মা তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন তাঁদের গ্রামের বাড়ি অর্থাৎ বিষ্ণুপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। মায়ের সঙ্গে বিরাজ করবে দেবাদিদেব মহাদেব লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশ। স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাড়ি ফিরে এসে তাঁদের তাঁত সালের দেখেন মা যেভাবে তাকে স্বপ্না দেশ দিয়েছিলেন সেভাবেই একটি মূর্তি রয়েছে। তখন থেকে শুরু হয় রক্ষিত পরিবারে কালীপুজোর দিনে দুর্গাপুজো।
এখানে রীতি রয়েছে মাকে যেহেতু ঘরের মেয়ে রূপে পুজো করা হয় তাই ভাই ফোটার পরে মায়ের বিসর্জন করা হয়। কারণ ভাই ফোটার পরে ঘরের মেয়েরা ঘরে ফিরবে এবং মা ও তাঁর সঙ্গে ঘরে ফিরবে এটাই রীতি। মায়ের ঘট বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা কেউ বিষ্ণুপুর ছেড়ে যান না। শারদীয়া পুজোর পরিবর্তে তাদের বাড়ির পুজোয় আত্মীয় স্বজনদের আমন্ত্রণ করা হয়। তাই এসময় পরিবারে সবাই আসেন।
