নিজস্ব প্রতিনিধি : ভোটমুখী বাংলায়, মোদি- শাহ-নাড্ডার পর এবার বঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। আর নবীন উচ্ছ্বাসে বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছে গেরুয়া শিবির। সভাপতি পদে শপথ নিয়েই প্রথম বৈঠক বঙ্গে করার কথা জানিয়েছিলেন নবীন। বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দু’দিনের বাংলা সফরে আসছেন বিজেপির নয়া সভাপতি। এই সফরে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বর্ধমানে একটি জনসভা করবেন তিনি। এসআইআর আবহে তাঁর এই সভা তাৎপর্য্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বঙ্গ বিজেপির নেতাদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন নীতীন নবীন। এই বৈঠকে কী বার্তা দেবেন নতুন সভাপতি ? জানা যাচ্ছে, সামনেই বড় নির্বাচন। নবান্ন দখলের লড়াই। এই লক্ষ্য মাথায় রেখে নির্বাচনী রণকৌশল, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা সহ কোন কৌশলে বুথ স্তরে সংগঠন “মেরা বুথ সব থেকে মজবুত” করা যায় সেই বিষয়ে ভোকাল টনিক দেবেন বিজেপি জাতীয় সভাপতি।
উল্লেখ্য,নতুন রাজ্য কমিটি তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি। নবীন রাজ্যে কমিটির সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। শুধু সংগঠন চাঙ্গা করা নয়,পাশাপাশি বর্ধমানের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নিয়ে পথ দেখাবেন নীতীন। শমীক বাবুদের আশা, নবীন নীতীনের এই আসা রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
যে সব ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপির জাতীয় সভাপতি রণকৌশল তৈরি করতে চাইছেন তা এরকম-
- স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা
স্থানীয় স্তরে ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষে অসন্তোষকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়া।
- জঙ্গলরাজ
বিজেপি মনে করছে, রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শাসন ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে তুলেছে। শিক্ষার অবমাননা, নারী নিরাপত্তা, সামাজিক অপরাধ, পরিযায়ী শ্রমিক, সংখ্যালঘু তোষণ ইত্যাদিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ বাড়ছে তাকে হাতিয়ার করতে চায় বিজেপি।
- বিধানসভা ভিত্তিক চার্জশিট
প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা ‘চার্জশিট’ তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতার প্ররযালোচনা থাকবে। জনসভায় এই চার্জশিট প্রকাশের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে।
কার্যকারী সভাপতি হওয়ার পর থেকেই বাংলাকে পাখির চোখ করছেন নীতীন। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে নতুন সভাপতি বলেন, সংগঠনটি নিচ থেকে উপর পর্যন্ত এতটাই শক্তিশালী যে আমরা বাংলাতেও জিতব।” এবার নিজেই সেই সংগঠনের হাল হকিকত খতিয়ে দেখতে বাংলায় আসছেন নবীন। দলীয় সূত্রে খবর,শুধু নবীন একা নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বারটার বেশি জনসভা করতে চায় শমীক শুভেন্দুরা। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার আগে দশটি এবং ভোট ঘোষণার পরে আরও অন্তত দশটি জনসভায় ভাষণ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরেই রাজ্যে আসার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও। যদিও রাজ্যের শাসনদল ‘তৃণমূল ভোটের আগে দিল্লী নেতৃত্বের বারবার বঙ্গে আসাকে “ডেলি প্যাসেনঞ্জারি বলে কটাক্ষ করে থাকে। এখন দেখার, নবীনের ভোকাল টনিকে বঙ্গ বিজেপি বাড়তি অক্সিজেন পায় কি না।