ওঙ্কার ডেস্ক: ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। বুধবার সে রাজ্যের আগরতলায় বসে এই মন্তব্য করেন তিনি। আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছে কুণাল ঘোষ, সায়নী ঘোষ-সহ জোড়াফুল শিবিরের ছয় জনের প্রতিনিধি দল। সেই প্রতিনিধি দল এদিন আগরতলায় পার্টি অফিসে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন যাদুবপুরের সাংসদ।
উল্লেখ্য, সোমবার ধস বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। যে ঘটনায় অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে ত্রিপুরার আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সে রাজ্যের বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভ থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়। দলীয় পতাকা ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। বুধবার ত্রিপুরায় গিয়ে আগরতলায় বসে সায়নী ঘোষ বলেন, ‘আমাদের বলতে খুব খারাপ লাগছে, ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। এখানে কোনও সংবিধান নেই, এখানে কোনও গণতন্ত্র নেই, এখানে মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই। এখানে মানুষকে যেন তেন প্রকারে ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছে। আমি শেষে একটা কথা বলতে চাই, আজকের বিজেপির নেতা, মন্ত্রী, এমএলএ, এমপিরা গোটা ভারতবর্ষের নানান রাজ্য থেকে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬০ দিন পশ্চিমবঙ্গে ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে, বড় বড় হোটেলে থাকে, ওখানে ভাল মন্দ খানা পিনা করে। তাদেরকে আমাদের রাজ্যের পক্ষ থেকে সিকিউরিটি, প্রটোকল দেওয়া হয়, তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু আজকে আমাদেরকে ত্রিপুরায় পা দিয়ে এরকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।’
তার আগে সায়নী বলেন, ‘যদি আমরা এতটাই নগন্য হই, যদি আমাদের থাকা না থাকাকে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের কোনও সমস্যা না হয় তাহলে তৃণমূলের পার্টি অফিস কেন ভাঙা হল? যদি আমাদের কোনও রকমের গুরুত্বই ত্রিপুরার মাটিতে না থাকে তাহলে মাত্র ছয় জনের প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে চার জন মহিলা, এক জন সিনিয়র কুণালদা, আর ছাত্র নেতা সুদীপ। এত কীসের ভয়, যে আমাদেরকে বিমানবন্দর চত্বরের বাইরে পা রাখতে দেওয়া হচ্ছে না তার আগে ড্রাইভারদেরকে হুমকি এবং ধুমকি ফোন দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখানে আসার আগে অবধি গতকাল রাত্রেও আমরা দেখেছি বিজেপির নানা স্তরের নানা সারির নেতারা ফেসবুক এবং সমাজ মাধ্যমে নানান রকম হুমকি দিচ্ছে।’
এদিন সায়নী আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলকেই একটা কথা বলতে চাই, পশ্চিমবঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে আমরা তার নিন্দা করি। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তিনি নিজে গিয়ে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন। তার মাধ্যমে তিনি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, যে তিনি দায়িত্বশীল প্রশাসক। কিন্তু এই পরিবেশ আমরা ত্রিপুরার মাটিতে না কোনও দিন এর আগে দেখেছি।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসে ত্রিপুরার কাকড়াবনে এক অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। সেবারে ত্রিপুরা তৃণমূলের রাজ্য স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্যা অনিতা দাসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠান হয়।
