নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অন্ধবিশ্বাসের জেরে হাড়হিম জোড়া খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়া ও কাঁকসার সীমান্তবর্তী এলাকায়। তান্ত্রিকের প্ররোচনায় প্রথমে স্ত্রীকে মুণ্ডচ্ছেদ করে এবং পরে বাবাকে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসা ও বাঁকুড়া জেলার মাঝখানে দামোদর নদের চরে অবস্থিত লালবাবা মানাচর এলাকায়। মৃতরা হলেন গৃহবধূ রুম্পা চৌধুরী (৩৯) এবং অভিযুক্তের বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী (৬০)। অভিযুক্তের নাম মঙ্গল চৌধুরী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রী রুম্পা নিয়মিত একটি মন্দিরে পুজো-অর্চনা করতেন। তাঁদের বাড়িতে এক তান্ত্রিকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। মাঝেমধ্যে বস্ত্রহীন হয়েও পুজো করতে দেখা যেত তাঁদের। প্রাথমিক অনুমান, ওই তান্ত্রিকের প্ররোচনা এবং অন্ধবিশ্বাসের বশেই এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল, খুনের পর স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু মন্দিরের ওপর রেখে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে কার্যত আতঙ্কিত এলাকাবাসী। পাশাপাশি উত্তেজনায় ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্ধবিশ্বাস বা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের জেরেই এই জোড়া খুন। ঠিক কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় এই খুন, তা খতিয়ে দেখছে সোনামুখী থানার পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে।