ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন কাজের চাপে মৃত্যু হয়েছে এক বুথ লেভেল অফিসারের। মৃতের নাম জাকির হোসেন। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের তথ্য যাচাই, ডকুমেন্ট সংগ্রহ, সার্ভারে আপলোড, ভুল সংশোধনের কাজ, এসব প্রতিদিন প্রায় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টানা কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, দিনের বেলা বাইরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করার পর রাতেও তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপে ডেটা আপলোড করতে হত। এতে বিশ্রামের কোনও সুযোগই পাচ্ছিলেন না।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই জাকির হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা আর বাঁচাতে পারেননি। চিকিৎসার প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জাকিরের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, বিএলও-দের উপর যে চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা অমানবিক। সার্ভারের সমস্যা, দিনের পর দিন বাড়তি দায়িত্ব, সময়সীমার চাপ, এসবের ফলে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, এসআইআর-এর কাজে যুক্ত বিএলও-দের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের কোনও নজর নেই।
এই ঘটনার পরে এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যদি জীবননাশী হয়ে ওঠে, তাহলে প্রক্রিয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এর কাজ শুরু হওয়ার পর এ ধরনের মৃত্যু এই নিয়ে একাধিকবার ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি, যা রাজ্য রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ভোটের আগে ভোটার তালিকা নতুন করে সাজানো জরুরি হলেও, মাঠে কাজ করা কর্মীদের সুরক্ষা, কাজের সময়সীমা, বিশ্রামের সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠছে।
