নিজস্ব সংবাদদাতা: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই-এর বিমানে সহ-পাইলটের নাশকতার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝ-আকাশেই বিমানটিকে গুলি করে নামানোর জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল ইজরায়েল। তেল আভিভের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুই ইজরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে তারা।
জানা গিয়েছে, ওই বিমানের বেশিরভাগ যাত্রীই ছিলেন ইজরায়েলি নাগরিক, প্রায় ১৫০ জন। তা সত্ত্বেও ৯/১১-এর মতো বড় হামলা এড়াতে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইজরায়েলি বাহিনী।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ধৃত সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি জেরায় নিজের পরিকল্পনা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে খুন করে বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। প্রথম লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেটা সম্ভব না হলে তেল আভিভ শহরের কোনও উঁচু বহুতলে বিমানটি ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
এই পরিকল্পনা আঁচ করতে পেরেই নড়েচড়ে বসে ইজরায়েল। সূত্রের খবর, বিমানটি হঠাৎ ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে গেলে ইজরায়েলি বায়ুসেনা ককপিটে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও সাড়া না মেলায় সঙ্গে সঙ্গে একটি কমান্ড সেন্টার খোলা হয়।
সিবিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ইজরায়েলের আকাশসীমা থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বিমানটি গতিপথ বদলে সৌদি আরবের দিকে চলে যায়। তখন যুদ্ধবিমানগুলিকে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, বিমানটি ইজরায়েলের আকাশে ঢুকলে যুদ্ধবিমানগুলি কাছ থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করত। হাইজ্যাক নিশ্চিত হলে বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হতো। আর এই ধরনের ক্ষেত্রে বিমান ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই।