ওঙ্কার ডেস্ক: বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ার বাজার শুরুতেই ধাক্কা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের আমদানির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় টান পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে নিফটি ৫০ সূচক প্রায় ১৮০ পয়েন্ট পড়ে ২৪,৫৮৩-এ নেমে আসে। সেনসেক্সও ৬০০ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে সকাল ৯টা ১৭ মিনিট নাগাদ ৮০,৩১৫ স্তরে লেনদেন করছিল।
প্রধান ১৬টি সেক্টরের মধ্যে ১৪টিই এদিন ক্ষতির মুখে পড়ে। তুলনায় ছোট শেয়ার বা স্মল-ক্যাপ ০.২% এবং মিড-ক্যাপ ০.১% কমেছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ১.৫% নামলেও আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ও রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ০.৯% পতন দেখেছে। এর আগে মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে নিফটি ও সেনসেক্স প্রায় ১% হারে নেমেছিল, যা তিন মাসে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন। বুধবার স্থানীয় ছুটির কারণে বাজার বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেয়ারভিত্তিক লেনদেনে ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন (ইন্ডিগো)–এর শেয়ার প্রায় ৪.৩% পড়ে যায়। তবে বাজারে মন্দার মধ্যেও ব্যতিক্রম দেখা যায় হিরো মটোকর্পে। সংস্থার শেয়ার ১.৫% বেড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। রাশিয়ার তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন, এমনটাই দাবি করে এসেছে ট্রাম্প শিবির। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্যের উপর মোট ৫০% শুল্ক বসেছে। এমআরবি পার্টনার্সের ইমার্জিং মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট আমর আবদেল খালেক সতর্ক করে বলেছেন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির কারনে ভারতীয় শেয়ার বাজার এখন কোনো রকম লাভজনক অবস্থায় নেয়”। এরমধ্যে আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই আগস্ট মাসে ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২.৬৬ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ প্রত্যাহার।
এবিষয়ে পিএল ক্যাপিটালের পরামর্শক প্রধান বিক্রম কাসাত বলেন, “বিষয়টি এখন আর কেবলমাত্র শুল্কের উপর নেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হলে শুধু রফতানি নয়, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানও ধাক্কা খাবে।”
