ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের নির্বাচন কমিশন ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ট ভাবে সম্পন্ন করতে বুথ স্তরে বিএলও নিয়োগ করে। যারা ভোটার তালিকা রেজিস্ট্রেশন, অথবা তালিকায় নতুন নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে মৃত ব্যাক্তির নাম তালিকা থেকে সড়িয়ে দেওয়ার মত গুরত্বপুর্ণ কাজ করে থাকেন। যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভপর হয়।
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘বিএলও’ বা বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেই। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি কমানোর জন্য ১৯৯০-এর দশকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন এই পদটি চালু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে কলকাতার কয়েকটি কেন্দ্রে বিএলও নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, তাদের কাজের ফলে ভোটার তালিকার সঠিকতা অনেক বেড়েছে। এই সাফল্যের পরেই ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মডেল অনুসরণ করে গোটা দেশে বিএলও ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করে তোলে।
বিএলও মূলত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন ভোটারদের নিবন্ধন, ঠিকানা পরিবর্তন বা নাম সংশোধনের আবেদন যাচাই করা, মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা এবং ভোটারদের পরিচয় যাচাই করা। প্রতিটি বুথ এলাকার জন্য একজন বিএলও নিয়োগ করা হয়, যিনি স্থানীয়ভাবে এলাকার বাসিন্দা এবং সাধারণত শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারী হন।
রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এস. সেনগুপ্ত। তাঁর ধারণা ছিল, ভোটার তালিকা তৈরির কাজ কেবলমাত্র দফতরে বসে করা যায় না। এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেই তালিকার নির্ভুলতা বাড়বে। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছিল বুথ লেভেল অফিসার পদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএলওদের কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। আজ তারা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজই করেন না, নির্বাচনের দিন বুথে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হন। তারা ভোটকর্মীদের সহায়তা করেন, বুথের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন, এবং কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত রিপোর্ট করেন।
এই ব্যবস্থার প্রভাব এতটাই ইতিবাচক হয়েছে যে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশও ভারতের এই ‘ব্লক লেভেল অফিসার’ মডেলটি অধ্যয়ন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই উদ্ভাবন ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে বিএলওদের কাজেও এসেছে আধুনিকতা। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও আপলোড করা যায়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে।
