ওঙ্কার ডেস্ক: ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোয় রক্তাক্ত সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। প্রশাসনের দাবি, শহরের সবচেয়ে কুখ্যাত মাদকচক্র ‘কমান্ডো ভেরমেলো’ বা ‘রেড কমান্ড’-এর বিরুদ্ধে এটি ছিল এক বিশেষ অভিযান। কিন্তু বাস্তবে সেই অভিযান পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ গণহত্যায় এমনই অভিযোগ উঠছে মানবাধিকার সংস্থাগুলির তরফে। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২১, যাদের মধ্যে চার জন পুলিশ অফিসারও রয়েছেন। এ ঘটনাই রিওর ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত পুলিশি অভিযান হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সুত্রের খবর, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় পুলিশের তল্লাশি অভিযান। প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্যকে কাজে নামানো হয়। রিওর উত্তরাঞ্চলের ফাভেলা বা বস্তি অঞ্চল ‘কমপ্লেক্সো দো আলেমাও’ ও ‘কমপ্লেক্সো দা পেনহা’ এলাকায় শুরু হয় টানা গুলির লড়াই। আকাশে টহল দেয় হেলিকপ্টার, মাটিতে টহল দেয় সাঁজোয়া গাড়ি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মাদকচক্রের গোপন ঘাঁটি ধ্বংস করা, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান শুরু হয়েছিল।
মাদক চক্র উদঘাটের এই পুলিশি অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা শহর পরিণত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে মৃতদেহ, গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে জনপদ। স্কুল, অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়; সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, যার ফলে বহু নিরপরাধ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন। এক স্থানীয় মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানান তাঁর ছেলে কোনো গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন না, তাও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলের ষরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযানের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে বলেছেন, “অস্ত্র দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না। মাদকচক্রকে ধ্বংস করতে হলে বুদ্ধিমত্তা, তথ্যনির্ভর কৌশল এবং সামাজিক পুনর্বাসন প্রয়োজন।” অন্যদিকে রিওর গভর্নর ক্লাউদিও কাস্ত্রো পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই অভিযানকে “নার্কো-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ অপরাধচক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।
মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের একটি দপ্তর অবশ্য এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের বক্তব্য, পুলিশি অভিযানে এত বিপুল প্রাণহানি কখনওই ন্যায্য হতে পারে না। তদন্তের দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও। বিশেষজ্ঞদের মত, রিওর বস্তি অঞ্চলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অবহেলাই মাদক ব্যবসার মূল কারণ। প্রতি বছর এমন অভিযান চালানো হলেও সমস্যার মূলে পৌঁছানো যায় না।
প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় একশোর বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে ৯০টিরও বেশি রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ মাদক। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই অভিযানে কতজন প্রকৃত অপরাধী, আর কতজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারালেন?
