ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। বন্ধ থাকা চারটি অ্যাকাউন্ট আপাতত খোলার অনুমতি দিল না আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, কারা ‘আসল তৃণমূল’, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে নতুন কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না।
জানা গিয়েছে, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই চার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৩ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পুলিশ ওই অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। এর বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতাপন্থী তৃণমূল। সংগঠনের তরফে অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় চালু করার আবেদন জানানো হয়। তবে সেই আবেদন আপাতত মঞ্জুর করেনি আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অন্য একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে স্পেশাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, এই মামলায় সমস্ত পক্ষকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যকে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে রাজ্যের তরফে অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন নিয়ে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। পুলিশের দাবি, বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, চারটি অ্যাকাউন্টে দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিকবার ১০ কোটি টাকা করে জমা দিয়েছেন। লিপস অ্যান্ড বাউন্সের তরফে ৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও সুমিত রায়ের তরফে ৭ কোটি টাকা জমা দেওয়ার কথা আদালতে জানানো হয়। রাজ্যের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। পুজোর ছুটির পর মামলার পরবর্তী শুনানি।