ওঙ্কার ডেস্ক: পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথের সেই সীতা সরকারি আশ্রয়ে থাকতে রাজি হলেন না। পুরসভা ও পুলিশের তরফে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। মঙ্গলবার থেকে সীতা ও তাঁর দুই ছোট মেয়েকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। প্রথমে তাঁদের বেলেঘাটার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রামমোহন রায় রোডের আশ্রয়েও নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোনও জায়গাতেই থাকতে রাজি হননি সীতা। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ও দুই মেয়েকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা সম্ভব হয়নি।
তবে সীতার আর এক মেয়ে পূজা পুরসভার ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট। তিনি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রেই থেকে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সীতা ও তাঁর দুই ছোট মেয়ের ঠিকানা এখন কোথায়? এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, তাঁরা নিরাপদেই রয়েছেন। দলের কর্মীদের বাড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন সীতাদেবী। সেই সময় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁকে দুধ গরম করতে বাধা দেন। সীতাকে ধমক দেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। এর পরেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জানা যায়, সীতার স্থায়ী কোনও বাড়ি নেই। প্রায় ৫০ বছর ধরে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতই তাঁর ঠিকানা। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। পরে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পুরমন্ত্রী। সোমবার ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। শুধু সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে বোঝানোর ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল বলেও জানান তিনি।