ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি খাতে। গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও বাজারে অস্থিরতার আবহে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিতভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলার ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে সরকার।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সাওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ জানিয়েছেন, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উপর একাধিক হামলার ঘটনায় সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা যেমন বাড়ছে, তেমনই আমদানিনির্ভর দেশগুলির উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ভারতে রান্না গ্যাসের সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে এবং তা নির্মূল করতে তৎপর কেন্দ্রীয়মন্ত্রক।
এদিন ব্রিফিং-এ জাওয়সাওয়াল জানিয়েছেন, ভারত, যা তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, সেই চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারছে না। বিশেষ করে এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি এবং বিলম্ব দেখা যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং দেশে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
সরকারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্যাস বুকিং করছেন। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং সাময়িক ঘাটতির অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও কালোবাজারি ও মজুতদারির প্রবণতা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলার প্রসঙ্গে কেন্দ্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্তরে উচ্চপর্যায়ের নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া এই জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
