ওঙ্কার ডেস্ক: চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্রমশ নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। মার্কিন অপরাধ অনুসন্ধানকারী সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, যে রাইফেল দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছিল তা উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনা সংলগ্ন একটি ছাদ থেকে। জানা গেছে একটি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল, যা দূরপাল্লার গুলির জন্য ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হামলাকারীর বয়স কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর মতো, যার ফলে সে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনায়াসে মিশে যেতে সক্ষম হয়েছিল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ হামলাটি ঘটে গিয়েছিল উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার্লি কার্কের এক বক্তৃতা চলাকালীন। সেখানেই এক প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন ভিড় থেকে ব্যাক্তি প্রশ্ন করে, “দেশে বাড়তে থাকা মাস শুটারের সংখ্যা নিয়ে কি ভাবছেন তিনি”। তার প্রত্যুত্তরে চার্লি বলেন, “কুখ্যাত গ্যাং গুলিকে ধরে না বাদ দিয়ে”। প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই চার্লির গলায় ভেসে বাঁধে গুলিটি।ঝরহজর করে রক্ত পরতে থাকে গলা বেয়ে। সেখানে প্রায় তিন হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন, এবং তাদের চোখের সামনেই মঞ্চের ছাদ থেকে চার্লির ওপর গুলি চালানো হয়। আতঙ্কিত পরিবেশে উপস্থিত জনতা নিরাপত্তার খোঁজে ছুটে বেড়াতে শুরু করে।
সিসিটিভি ফুতেজে দেখা যায় ঘটনার পরপরই হামলাকারী পাশের আবাসিক এলাকায় পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাইফেল ছাড়াও আরও কিছু প্রমাণ, যার মধ্যে রয়েছে পায়ের ছাপ। এই সূত্রগুলো ধরে তদন্ত এগোচ্ছে। এদিকে এফবিআই ইতিমধ্যেই ‘পারসন অফ ইন্টারেস্ট’ হিসেবে একজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা গিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি কালো রঙের জামা, কালো টুপি এবং সানগ্লাস পরে ছিলেন। তার কাঁধে ছিল একটি কালো ব্যাগ। প্রকাশিত ছবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ারও চেষ্টা করছে প্রশাসন।
চার্লি কার্ক ছিলেন মার্কিন রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ, একই সঙ্গে পরিচিত পডকাস্ট ও রেডিও হোস্ট। তার খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলও ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, চার্লিকে মৃত্যুর পর “প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” সম্মাননা দেওয়া হবে।
আপাতত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে এফবিআই জানিয়েছে, প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে এবং উদ্ধার হওয়া রাইফেল ও অন্যান্য প্রমাণের সাহায্যে খুব দ্রুতই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ও বিতর্ক শুরু হয়েছে গোটা মার্কিন সমাজে।
