ওঙ্কার ডেস্ক: ছত্তীসগঢ়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার সময় বিলাসপুরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী ডেমু ট্রেন এবং একটি পণ্যবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন যাত্রীবাহী ট্রেনটি লাল সিগন্যাল অগ্রাহ্য করে সামনের লাইনে ঢুকে পড়ে। সেই সময় একই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল একটি পণ্যবাহী ট্রেন। প্রবল গতিতে ধাক্কা মারে ডেমু ট্রেনটি। সংঘর্ষের তীব্রতায় যাত্রীবাহী ট্রেনের বেশ কয়েকটি কামরা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কয়েকজনের। বহু যাত্রী কামরার ভিতরে আটকে পড়েন। স্থানীয় মানুষ ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে রেল মন্ত্রী অশ্বনী বৈষ্ণব। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত। পরদিন সকালেও চলছিল দেহ উদ্ধার ও রেললাইন পরিষ্কারের কাজ। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের ৫ লক্ষ এবং সামান্য আহতদের ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
রেল বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, সিগন্যাল উপেক্ষা করেই ট্রেনটি সেই রুটে প্রবেশ করেছিল। তবে কেন এমন বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি-র নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিটি। সিগন্যাল সিস্টেমে কোনও ত্রুটি ছিল কিনা, নাকি মানবিক ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে রেল নিরাপত্তা নিয়ে।
