ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার চিনকে নিশানা করে শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলি যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয় এবং চিনের পণ্যের উপরে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসায়, তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো সম্ভব। ট্রাম্পের বক্তব্য, চিনের হাতেই রাশিয়ার অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই শুল্ক চাপালে মস্কো দুর্বল হবে এবং চলমান যুদ্ধ থেমে যাবে।
এমন হুঁশিয়ারির জবাবে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই কার্যত মাত্র দু’টি বাক্যে মার্কিন রাজনীতিককে উত্তর দিয়েছেন। স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “চিন কখনও যুদ্ধের পরিকল্পনা করে না, কিংবা যুদ্ধে যোগও দেয় না। যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। বরং নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক সমস্যাগুলিকে আরও জটিল করে তোলে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াং ই-এর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, চিন কূটনৈতিক দিক থেকে নিজেদের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চাইছে। একদিকে নেটোর দেশগুলি প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জানালেও, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির আরোপিত চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত অকার্যকর বলে তুলে ধরছে।
ট্রাম্পের দাবি, শুল্কই হল চিনকে চাপে রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ নিলে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত থামানো সম্ভব। তবে চিনের বক্তব্য, অর্থনৈতিক চাপ কখনও স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না। ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিং-এর মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
