চন্দ্রমল্লিকা গাছের কাটিং থেকে খুব সহজেই নতুন চারা তৈরি করা যায়। তবে ভালো ও সুস্থ চারা পেতে হলে কাটিং নেওয়ার সঠিক সময় এবং পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
কাটিং করার উপযুক্ত সময়
চন্দ্রমল্লিকার কাটিং থেকে চারা তৈরির জন্য বর্ষার শেষ থেকে শরতের শুরুর সময়টি বেশ উপযোগী। এই সময় গাছের ডাল সতেজ থাকে এবং পরিবেশের আর্দ্রতাও কাটিংয়ের শিকড় গজাতে সাহায্য করে। সুস্থ, রোগমুক্ত গাছ থেকে ৩–৫ ইঞ্চি লম্বা নরম বা আধা-কচি ডাল নির্বাচন করুন।
কীভাবে কাটিং করবেন?
ডালের নিচের দিকের পাতাগুলো সরিয়ে দিন। উপরের দিকে ২–৩টি পাতা রেখে দিতে পারেন। ধারালো ও পরিষ্কার ব্লেড দিয়ে গিঁটের ঠিক নিচে তির্যকভাবে কাট দিন। চাইলে কাটিংয়ের নিচের অংশে রুটিং হরমোন ব্যবহার করতে পারেন, এতে দ্রুত শিকড় গজাতে সাহায্য করতে পারে।
মাটির মিশ্রণ কেমন হবে?
কাটিং লাগানোর জন্য ঝুরঝুরে ও জল নিষ্কাশনের উপযোগী মাটি ব্যবহার করুন। মাটির সঙ্গে কোকোপিট, বালি এবং সামান্য জৈব সার মিশিয়ে নিতে পারেন। কাটিংটি খুব গভীরে নয়, একটি বা দুটি গিঁট মাটির মধ্যে রেখে লাগান।
কাটিংয়ের পরিচর্যা
কাটিং লাগানোর পর মাটি হালকা ভেজা রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত জল দেবেন না। সরাসরি প্রখর রোদে না রেখে উজ্জ্বল আলো ও হালকা ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখুন। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে কাটিং পচে যেতে পারে।
নতুন পাতা দেখলেই বুঝবেন সাফল্য এসেছে
সাধারণত কিছুদিন পর কাটিংয়ে নতুন পাতা বা কুঁড়ি দেখা দিতে শুরু করলে বুঝতে পারবেন যে শিকড় তৈরি হচ্ছে। শিকড় ভালোভাবে গজিয়ে গেলে ধীরে ধীরে গাছটিকে বেশি আলোতে অভ্যস্ত করুন এবং পরে বড় টবে স্থানান্তর করুন।
চন্দ্রমল্লিকার সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান গাছ পেতে মূল বিষয় হলো—সঠিক সময়ে কাটিং, ঝুরঝুরে মাটি, নিয়ন্ত্রিত জল এবং পর্যাপ্ত আলো। একটু যত্ন নিলেই একটি গাছ থেকে তৈরি করতে পারবেন অনেকগুলো নতুন চারা।