মাইগ্রেন এবং সাধারণ মাথাব্যথা এক জিনিস নয়। মাথাব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। অন্যদিকে, মাইগ্রেন একটি নির্দিষ্ট ধরনের স্নায়বিক সমস্যা, যার ফলে বারবার মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। তাই সব মাইগ্রেনকে মাথাব্যথা বলা গেলেও সব মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয়।
সাধারণ মাথাব্যথায় মাথার দু’পাশে চাপ বা টান ধরার মতো ব্যথা হতে পারে। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার মতো কারণে এটি হতে পারে। সাধারণত বিশ্রাম নিলে এই ধরনের ব্যথা কমে যায়।
অন্যদিকে, মাইগ্রেনের ব্যথা অনেক সময় মাথার এক পাশে বেশি অনুভূত হয় এবং ধকধক করতে পারে। ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাইগ্রেনের সময় অনেকের বমি বমি ভাব বা বমি হয় এবং আলো, শব্দ বা তীব্র গন্ধ সহ্য করতে কষ্ট হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখে ঝিকমিক করা আলো, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা কথা বলতে অসুবিধার মতো অবস্থা দেখা দিতে পারে।
মাইগ্রেনের সাধারণ লক্ষণ
মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মাঝারি থেকে তীব্র ধকধকে মাথাব্যথা
মাথার এক বা উভয় পাশে ব্যথা
বমি বমি ভাব বা বমি
আলো ও শব্দে অস্বস্তি
শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
মাথাব্যথার আগে দৃষ্টির পরিবর্তন
উপশমের উপায়
মাইগ্রেনের সময় শান্ত, অন্ধকার ও নীরব ঘরে বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত ঘুমানো এবং সময়মতো খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো, তীব্র শব্দ, কিছু নির্দিষ্ট খাবার বা মানসিক চাপ কারও কারও ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে, তাই কোন বিষয়গুলোতে সমস্যা বাড়ে তা লক্ষ্য রাখা ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া যেতে পারে।
বারবার বা খুব তীব্র মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা, মাথায় আঘাতের পর ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, দুর্বলতা বা কথা বলার সমস্যা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।