নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনায় কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে এর তীব্র নিন্দা করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ওই দুই নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এক্স-এ মমতা লেখেন, আশুতোষ ও সৌরভের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর এই মরিয়া চেষ্টা তিনি বুঝতে পারছেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে আক্রমণ করার জন্য এটি বিপজ্জনক ভাইরাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। জেন জি প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, যাঁরা আজ ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা চিরকাল থাকবেন না।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বই পর্যন্ত সারা দেশে অত্যাচারের মাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। পূর্বসূরিরা ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় চরম অত্যাচার সহ্য করেও সাহসের সঙ্গে লড়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মমতার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস এবং পুলিশি অত্যাচার। এই ধরনের জবরদস্তি বেশিদিন টেকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যখন আদর্শবাদী মানুষ ‘ভারতকে বাঁচাও, গণতন্ত্রকে বাঁচাও’ স্লোগান তুলে রুখে দাঁড়াবেন, তখনই সরকারের অহংকারী রাজনীতিবিদদের চোখ খুলবে। সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে অবিলম্বে আশুতোষ ও সৌরভকে মুক্তি দেওয়া হোক।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জেন জি-র আন্দোলনকে প্রথম থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন মমতা। এর আগে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা তোলা ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হন আশুতোষ ও সৌরভ। সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার বিরোধিতা করছে সিজেপি। ৫ দিনের হেফাজত শেষে সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে আরও দুদিন হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ফলে এখনই তাঁদের মুক্তি হচ্ছে না। সিজেপির অভিযোগ, দুই নেতাকে আটকে রাখতেই ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।