নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে বিপর্যয়ের নেপথ্যে ছিল গুজব। বৃষ্টির জেরে প্রস্থানপথের সামনে ভিড় জমে, আর তখনই কেউ বা কারা ঘোষণা করে দেয় মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ছে। তারপরই ঠেলাঠেলি হুড়োহুড়িতে পরিণত হয়। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই মনে করছে পুলিশ।
সোমবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল অগ্রবাল জানান, গোটা মণ্ডপে ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাস্থলের ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টি নামায় প্রস্থানপথ ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায়। অথচ প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়নি। মণ্ডপের ভিতরেও তখন প্রচুর দর্শনার্থী ছিলেন। সেই সময় ভিতর থেকে ঘোষণা করা হয় মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে। পুলিশের দাবি, মণ্ডপের কোনও অংশ ভেঙে পড়ার প্রমাণ তারা পায়নি। তাহলে কেন এমন ঘোষণা করা হল, কারা করল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার পর রবিবার সকালে ভবানী ভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ২০ ও ২১ অক্টোবর নবমী ও দশমীর দিন মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেবেন। এছাড়া ২৬ অক্টোবর মিলন মেলায় আড়ম্বরহীন ভাবে বিজয়া সম্মিলনী হবে। সেখানে কলকাতা ও পাঁচটি কমিশনারেটের পুজো উদ্যোক্তাদের ডাকা হবে। পদপিষ্টের ঘটনায় জখম ২৫ জনকেও ডাকা হবে এবং তাঁদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে তুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহারে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম আইনুল হক, বাড়ি টাপুরহাট এলাকায়। অভিযোগ, সপ্তমীর দুর্ঘটনায় মৃতদের চোখ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন তিনি এবং সেটি বেশি করে শেয়ার করার আবেদন জানান। কেন তিনি এমন পোস্ট করলেন, এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।