ওঙ্কার ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার নলবনে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং নগরায়ণের ফলে ক্রমশ কমতে থাকা সবুজায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণকে শুধুমাত্র সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ আকারে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ণ ও বহুতল নির্মাণের ফলে শহর এবং শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার সময় পরিবেশ সংক্রান্ত যে নিয়মগুলি অনুসরণ করার কথা, অনেক ক্ষেত্রেই তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে গাছ লাগানো ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিবেশ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক ফলদ গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি চলতি বর্ষা মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানোর লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, লাগানো গাছের পরিচর্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বহু ক্ষেত্রেই গাছ লাগানোর পর তার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে গাছের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল স্তর থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে সচেতন করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আগামী প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার দিকে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন বনাঞ্চল রক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় বনভূমির চরিত্র পরিবর্তন, গাছ কাটার প্রবণতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনও উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জঙ্গলমহল থেকে তরাই-ডুয়ার্স রাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জলাশয় সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে জনসচেতনতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়।