কোলন ক্যান্সার বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
কোলন ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?
কোলন ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—
১. দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ায় ভোগা। ২. মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন আসা। ৩. মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া অথবা মল কালচে হওয়া। ৪. পেটের মধ্যে বারবার ব্যথা, অস্বস্তি বা ফোলাভাব অনুভব করা। ৫. অকারণে ওজন কমে যাওয়া। ৬. দীর্ঘদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা বা রক্তাল্পতায় ভোগা। ৭. মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার হয়নি বলে মনে হওয়া।
তবে এই লক্ষণগুলি থাকলেই যে কোলন ক্যান্সার হয়েছে, তা নয়। অন্যান্য রোগেও এমন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে বা বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে কী কী সতর্কতা নেবেন?
কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
প্রথমত, প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন সসেজ ও বেকন, এবং অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া সীমিত করুন। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা করুন এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস বজায় রাখুন।
পরিবারে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে স্ক্রিনিং বা আগাম পরীক্ষা করান। অনেক ক্ষেত্রে ৪৫ বছর বয়স থেকে গড় ঝুঁকির ব্যক্তিদের স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
কোলন ক্যান্সার হলে কী করবেন?
কোলন ক্যান্সারের সন্দেহ হলে দেরি না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী কোলনোস্কোপি, বায়োপসি ও অন্যান্য পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসার মধ্যে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা নির্দিষ্ট ওষুধ থাকতে পারে। কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা রোগের পর্যায় ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখবেন: মলের সঙ্গে রক্ত গেলে বা দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা থাকলে অবহেলা করবেন না। প্রচুর রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া বা মল-গ্যাস বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা নিন। সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসাই কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।