নিজস্ব সংবাদদাতা: আচমকা ইজরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক সারলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। যদিও এই বৈঠক নিয়ে এখনও পর্যন্ত তেল আভিভ বা ওয়াশিংটনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এই গোপন বৈঠক এমন এক সময়ে হল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনের সপ্তাহে ইজরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটাই ইজরায়েলে প্রথম ভোট, যার পর গাজা, লেবানন এবং ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইজরায়েল।
জনমত সমীক্ষা বলছে, নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। আবার বিরোধীরাও সরকার গঠনের মতো অবস্থায় নাও থাকতে পারে।
ট্রাম্পের এই সমর্থনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ডিরেক্টর সনম ভাকিল আল জাজিরাকে বলেন, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই সমর্থন নেতানিয়াহুকে বোঝাতে সাহায্য করবে যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনিই অপরিহার্য। তবে ভোটে এর প্রভাব খুব বেশি হবে না। ইজরায়েলের ভোটাররা এখনও নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিভক্ত।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আন্দ্রেয়াস ক্রেগ ট্রাম্পের সমর্থনকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ প্রচারে তিনি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। তবে তাঁর মতে, এটা খেলা ঘুরিয়ে দেবে না। ডানপন্থী দলগুলির ভাঙন, অতি-অর্থোডক্স ভোটারদের মোহভঙ্গ এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার দায় নেতানিয়াহুর কাঠামোগত সমস্যা। ট্রাম্প হয়তো লিকুদ পার্টির কিছু দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারকে ফেরাতে পারবেন, কিন্তু জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারবেন না।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের সমর্থনের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান যুদ্ধ। মার্কিন মিডিয়ার খবর, পেন্টাগন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে ইরানে ফের হামলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের এই সমর্থন ইজরায়েলের সঙ্গে ফের রাজনৈতিক সখ্যতার ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে। সনম ভাকিলের মতে, এর ফলে ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখা বা আমেরিকাকে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে বলে দেখানো কঠিন হবে।
তেহরানের কাছে এই বার্তা আরও স্পষ্ট করবে যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লক্ষ্যের মধ্যে তেমন কোনও ফারাক নেই।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি প্রকাশ্যে আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে আনার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন। সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি ইজরায়েলের নির্বাচনে জড়াতে চান না, তাঁর নজর মধ্যবর্তী নির্বাচনে। উল্লেখ্য, ভ্যান্স চলতি বছরের শুরুতে হাঙ্গেরিতে গিয়ে ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।