ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এই সংঘাতে ভারতকে সরাসরি জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
থারুর জানান, মধ্যপ্রাচ্য ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। কারণ ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ওই অঞ্চল থেকেই আমদানি করা হয়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও তার আশপাশের দেশগুলির ওপর ভারতের জ্বালানি নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের মোট তেল আমদানির একটি বড় অংশ আসে সেই পথ দিয়ে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে হরমুজ প্রণালীর। ওই প্রণালী দিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল পরিবহণ হয় বলে তিনি জানান। ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মরত আছেন বলেও উল্লেখ করেন থারুর। তাঁর কথায়, প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটির কাছাকাছি ভারতীয় ওই অঞ্চলে বাস ও কাজ করেন। সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা আরও তীব্র হয়ে ওঠে, তবে তাঁদের নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
থারুর আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, ভারত ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। সেই কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল পরিস্থিতিতে অনেক সময় সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। জ্বালানি সরবরাহ, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলি বিবেচনা করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সার্বিকভাবে তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়াই এখন ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
