অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে ভোট গণনায় শুরুতে কার্যত খাতাই খুলতে পারেনি কংগ্রেস। তুলনায় ভাল ফল করেছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা। আর সেই ফল দেখেই কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু রাত পেরোতেই ছবিটা বদলে গেল নাগপুরে।
বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বেশিরভাগ আসনের ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। কোথাও জয়ীর তালিকায় কংগ্রেসের নাম ছিল না। যে কটি আসনে গণনা বাকি ছিল, সেখানেও এগিয়ে ছিল না হাত শিবির। এই প্রেক্ষিতে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মোদী লেখেন, চার বড় রাজ্যে ২৮টি আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে, বলুন তো কংগ্রেস কটা আসনে জিতল? সঙ্গে জুড়ে দেন আতসকাচের ইমোজি। এর পর বিজেপির অন্য নেতারাও একই সুরে আক্রমণ শুরু করেন।
কিন্তু বুধবার গভীর রাতে খেলা ঘোরে নাগপুরে। ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা টানটান গণনায় শেষ পর্যন্ত জয় পান কংগ্রেসের বিদায়ী সদস্য অভিজিৎ ওয়াংজারি। বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে তিনি হারান ৩,২৭১ ভোটে। বৃহস্পতিবার ভোরে ফল চূড়ান্ত হয়।
এই জয় কংগ্রেসের কাছে শুধু খাতা খোলা নয়, প্রতীকী জয়ও। নাগপুর আরএসএসের সদর দফতর, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নিজের শহর। ১৯৯০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা ২৪ বছর এই আসন থেকে পরিষদের সদস্য ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরী। ২০২০ সালেও এই আসন থেকে জিতেছিলেন অভিজিৎ। এবার সুধাকরের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন ফড়নবীস ও গডকরী দুজনেই। তার পরেও হার বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা।
মহারাষ্ট্রের পাঁচটি আসনের মধ্যে বিজেপি ও শিন্দে সেনা জোট পেয়েছে দুটি আসন, বিজেপি একটি, শিন্দে শিবির একটি। কংগ্রেস একটি এবং বাকি দুটি গিয়েছে শরদ পওয়ারের এনসিপির ঝুলিতে।
উত্তরপ্রদেশেও ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর একটি পরিষদ আসনে হেরেছে বিজেপি, অন্য আসনের ফল এখনও বাকি।
নাগপুরের ফল আসতেই মোদীকে পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি লেখেন, তারপর মোদী সাহেব নিজের লোকসভা কেন্দ্রের পরিষদ আসন হারালেন, নাগপুরেও বিজেপি হারল। বলুন তো নাগপুরে কে জিতল?
এদিকে ফড়নবীসকেও খোঁচা দিয়েছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলের আগেই ফড়নবীস পোস্ট করে বলেছিলেন কংগ্রেস বড় শূন্য পেয়েছে। ফল বেরোতেই সেই পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সেই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কংগ্রেস লিখেছে, বড় কিছু করার ভঙ্গিতে করা টুইট শেষ পর্যন্ত নিজের গায়েই বিঁধল।