অর্পিতা মুখার্জি, নৈহাটি: বুধবারটা বেশ চাপেই কাটল জগদ্দলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের। সকাল থেকে রাত — একই দিনে দুই দফতরের মুখোমুখি হতে হল তাঁর পরিবারকে।
প্রথম ঘটনা সকালে। জগদ্দলের বাবু কোয়ার্টার এলাকায় সোমনাথের শ্বশুরবাড়িতে হঠাৎ হাজির হয় সিআইডির একটি দল। বাড়িতে তখন ছিলেন তাঁর শ্যালক সঞ্জয় সাউ। তাঁর দাবি, আধিকারিকরা তাঁর দিদি সংগীতা সাউয়ের খোঁজ করছিলেন। দেওয়ালে একটি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েই বেরিয়ে যান তাঁরা, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।
এর পরেই এলাকায় আরেকটি অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দন গুপ্তার দাবি, সিআইডি বেরিয়ে যেতেই বাড়ির ভিতর থেকে সেই নোটিস ছিঁড়ে ফেলা হয়। কী কারণে এই নোটিস দেওয়া হল, তার বিষয়বস্তু কী ছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
রাত গড়াতেই দ্বিতীয় ঘটনা। নৈহাটিতে সোমনাথ শ্যামের নিজের বাড়িতে অভিযান চালায় আয়কর দফতর। সাত জনের একটি দল প্রায় দু ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় বলে সূত্রের খবর। আলমারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফাইল খতিয়ে দেখা হয়। ব্যাঙ্কের লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসেব এবং কয়েকটি জমির দলিল-সহ বেশ কিছু নথি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযানের পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, বা তল্লাশিতে ঠিক কী মিলেছে, তা নিয়ে আয়কর দফতর এখনও মুখ খোলেনি।
ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, সোমনাথের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তাঁর মতে, হাতে তথ্য এসেছে বলেই আয়কর দফতর তল্লাশিতে এসেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
প্রশ্ন উঠছে, সকালের সিআইডির নোটিস আর রাতের আয়কর হানা — দুটো কি একসূত্রে গাঁথা, নাকি একেবারেই আলাদা দুটি তদন্ত? উত্তর মেলেনি এখনও। এলাকায় জল্পনা বাড়ছে।