সূর্যজ্যোতি পাল, কোচবিহার : খাগড়াবাড়ি এলাকায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় উত্তাল কোচবিহার। মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলাবার দলীয় কর্মসূচিতে কোচবিহার যান। এদিন কোচবিহার পুলিশ সুপার ঘেরাও কর্মসূচি নেয় বিজেপি। তারই অঙ্গ হিসেবে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল শুভেন্দুর। সেইমতো বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে তাঁর কনভয় সাড়ে ১২টা নাগাদ যখন খাগড়াবাড়ি এলাকায় পৌঁছোয় হঠাৎই তাঁর কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে একদল তৃণমূল সমর্থক। তখন তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়, “গো ব্যাক” শ্লোগান ওঠে। এমন কী শুভেন্দুর কনভয় লক্ষ্য করে “জুতো ছোঁড়া” হয় বলে অভিযোগ। তাতে গাড়ির কাচ ভাঙে।
শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল কায়দা করে হামলা চালিয়েছে। আমি যদি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে না থাকতাম, তা হলে এতক্ষণ মর্গে থাকতাম। পুলিশের সামনে এই হামলা হয়েছে”। শুভেন্দুর দাবি, “এই হামলার পিছনে আছে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের এনে হামলা চালানো হয়েছে। কাঠের মোটা ডাণ্ডা, পাথর— সব ব্যবহার করা হয়েছে। মেরে ফেলতেই কনভয়ে অ্যাটাক করা হয়েছে”।

এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি সন্দেহে ভিন্রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে কোচবিহারে এদিন উনিশটি জায়গায় অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো খাগড়াবাড়িতেও চলছিল তৃণমূলের অবস্থান বিক্ষোভ। শুভেন্দুর কনভয় তার মধ্যে এসে পড়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
এরপরই শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। শুভেন্দুর অভিযোগ, “সোমবার রাতেই স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে আমি লিখিতভাবে কোচবিহার আসার কথা জানিয়েছিলাম। তাও কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং পুলিশের সামনেই পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। আমি আগেই জানতাম ওরা এটা ঘটাবে”। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “কোচবিহারের এসপি-কে এর জবাব দিতে হবে। আমি যা করার করব। রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা মেনে নেওয়া যায় না”।

এই ঘটনায় বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। তাঁর কোচবিহার সফর সম্পর্কে আগে থেকেই জানা ছিল। তাহলে পুলিশ কেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলো না ? তা৬র আরও প্রশ্ন, শুভেন্দু আসছেন জেনেও কেন সেই এলাকায় তৃণমূলের বিক্ষোভের অনুমতি দিল পুলিশ ? কী ভাবে একদল তৃণমূল কর্মী নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেঙে শুভেন্দুর কনভয়ের কাছে পৌঁছে গেলেন ?
এদিকে শুভেন্দু এবং বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি বলেছেন, “বিজেপি বাংলা ভাষা বিরোধী। তারা যেখানে যেখানে যাবে, সেখানে সেখানে বিক্ষোভ দেখানো হবে”।
