৭৫৪টি ভোটের মধ্যে ১৫টি অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। বৈধ ভোটের মধ্যে সিপি রাধাকৃষ্ণণ ৪৫২টি প্রথম পছন্দের ভোট পেয়েছেন, বিচারপতি সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০টি
ওঙ্কার ডেস্ক : মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ও এনডিএ-র মনোনীত প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে জগদীপ ধনখড়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ৬৮ বছর বয়সী রাধাকৃষ্ণণ মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। রিটার্নিং অফিসার পিভি মোদি জানিয়েছেন, তিনি পেয়েছেন ৪৫২টি প্রথম পছন্দের ভোট। বিরোধী প্রার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি ৩০০টি প্রথম পছন্দের ভো পেয়েছেন। ৭৫৪টি ভোটের মধ্যে ১৫টি ক্রস-ভোটিং বলে জানা গেছে। তবে, উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ভোটের ব্যবধানে জয়ের মধ্যে এটি একটি হয়ে রইল। জয়ের ব্যবধান ১৫২টি ভোট। ২০২২ সালে জগদীপ ধনখড় গত ছয়টি উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। বিরোধী প্রার্থী মার্গারেট আলভার চেয়ে ১৮২টি ভোট বেশী পেয়েছিলেন ধনকড়।
সংসদের দুই কক্ষেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ফলে রাধাকৃষ্ণনের জয় নিয়ে সংশয় ছিল না। কৌতুহল ছিল ক্রস-ভোটিং নিয়ে। এদিন ভোটের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেল, এবারেও যথেষ্ট ক্রস-ভোটিং হয়েছে। বিরোধী সাংসদদের অন্তত ১৫ জন এনডিএ প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কংগ্রেসের দাবি, তাদের ৩১৫ জন বিরোধী সাংসদ একসঙ্গে ছিলেন। তবুও উল্লসিত এনডিএ এটিকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলিতে ফাটলের একটি উদাহরণ হিসাবে দাবি করছে।
এনডিএ-র ভোট ছিল ৪২৭টি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ১১ জন সাংসদের ১১টি ভোট। তাই এনডিএ-র ভোট ৪৩৮ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু রাধাকৃষ্ণণ ৪৫২টি ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ১৪টি বেশি ভোট। ইন্ডিয়া জোটের ১৫টি ভোট কম হওয়ায় এই সম্ভাবনাটি সামনে এসেছে। বিজেপির নিশিকান্ত দুবে X-এ একটি পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, “কোন ১৫ জন পালিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছেন ?” এইসঙ্গে রাহুলের নাম করে নিশিকান্ত দুবে টিপ্পনি কাটতেও ছাড়েননি।
নির্বাচিত উপরাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে X-এ পোস্ট করেছেন, “আমরা আশা করি নবনির্বাচিত উপরাষ্ট্রপতি সংসদীয় ঐতিহ্যের সর্বোচ্চ নীতিমালা বজায় রাখবেন, বিরোধী দলের জন্য সমান স্থান এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবেন এবং শাসকগোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না”। তিনি আরও বলেন, “উপরাষ্ট্রপতি হল দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় স্বাধীনতা, ন্যায্যতা এবং শক্তি প্রতিফলিত করার জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।”
