অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সিস্টেমটি তীব্র থেকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। আজ, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় এর অবস্থান ছিল বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আপাতত পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছে সিস্টেমটি। মঙ্গলবার রাতে আরও খানিকটা উত্তর-পশ্চিমে বাঁক নেবে। এরপর আগামীকাল বুধবার, সকালেই বাপতলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যে, ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি কোথাও আছড়ে পড়তে পারে। ল্যান্ডফলের সময় হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ১৪০ কিলোমিটার।
ইতিমধ্যেই অন্ধ্রের অনাকাপল্লি, শ্রীকাকুলাম, বিশাখাপত্তনম, ভিজিয়ানগরমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ২০ জেলার জন্য ২৭ কোটি টাকা ছেড়েছে সরকার। কাকিনাড়া, কৃষ্ণা, পূর্ব গোদাবরী পেয়েছে ২ কোটি করে, বাকি জেলাগুলো ১ কোটি। কাকিনাড়া, কোনাসীমা, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, মছলিপত্তনম, নাকাপল্লি, ইয়ানাম ও বিশাখাপত্তনমে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ।
রেল পরিষেবাতেও প্রভাব। অন্ধ্রে মঙ্গল ও বুধবার ৫৩টি ট্রেন বাতিল। বিজয়ওয়াড়া-রাজামুন্দ্রি-কাকিনাড়া-বিশাখাপত্তনম রুট স্তব্ধ। ওড়িশায় মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি পর্যন্ত বাতিল ৮টি ট্রেন, যার মধ্যে রয়েছে বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট ও কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার। বিশাখাপত্তনমে চালু হয়েছে রেলের কন্ট্রোল রুম।
দক্ষিণ ওড়িশায় প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট, নবরংপুরে দু’দিন স্কুল-কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি বন্ধ। আন্দামান-নিকোবরেও স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ। নিচু এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখতে আট মন্ত্রীকে মাঠে নামিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
‘অর্ণব’-এর জেরে বাংলার উপকূলেও সতর্কতা। মঙ্গলবার থেকে সমুদ্র উত্তাল হবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর। যাঁরা সমুদ্রে আছেন, সোমবারের মধ্যেই ফিরতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। বুধবার দক্ষিণের চার জেলায় ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেমি) ও ৪০-৫০ কিমি বেগে হাওয়া। বৃহস্পতি-শুক্রবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, গঙ্গাসাগর, গোবর্ধনপুরে মাইকিং শুরু করেছে কোস্টাল থানা। নামানো হয়েছে সিভিল ডিফেন্স। পূর্ণিমার ভরা কটাল ও গভীর নিম্নচাপের কারণে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও রয়েছে। শুধু উপকূল নয়, বিহার ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দুই রাজ্যকে সতর্ক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথন।