ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলার শুনানি আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্য সরকারের তরফে চাওয়া অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর হবে কি না, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। এর আগে ১৬ মে শীর্ষ আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল, অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে।
বিগত শুনানিতে আদালত জানিয়েছিল, চাইলে তারা রাজ্যের সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিতে পারত, কিন্তু তা না করে বিচারপতিরা জানান, অগস্ট মাসেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২৭ জুন। ঠিক সেই দিনই রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় আরও ছ’মাস সময়ের জন্য। রাজ্যের যুক্তি, তাদের আর্থিক সংকট রয়েছে। এই মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে দরকার ১০,৪২৫ কোটি টাকা, যা বর্তমান আর্থিক বছরে বরাদ্দ করা নেই। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া এই পরিমাণ ঋণ তোলা সম্ভব নয় এবং সে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। পাশাপাশি রাজ্য আরও কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরে আদালতের কাছে ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, এটি কোনও মৌলিক অধিকার নয়।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামো এক নয়, তাই কেন্দ্রের হারে ডিএ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না ২০০৯ সালের আরওপিএ অনুযায়ী, রাজ্য নিজস্ব নিয়মে ডিএ নির্ধারণ করে থাকে, এবং রাজ্য কেবল সরকারি কর্মীদের নয়, স্কুল, কলেজ, পুরসভা, পঞ্চায়েত সহ নানা ক্ষেত্রের কর্মীদেরও ডিএ দেয়। সেই সঙ্গে রাজ্য দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অনুদান কমে যাওয়া, জিএসটি বকেয়া না মেটানো, স্বাস্থ্য, পেনশন, এলটিসি এবং অতিরিক্ত ছুটি সব মিলিয়ে রাজ্যের ব্যয় অনেক বেড়েছে।
রাজ্য সরকারের হিসাব বলছে, বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য বরাদ্দ ১১,৮৯০ কোটি, পেনশন প্রাপকদের জন্য ১১,৬১১ কোটি, এবং শিক্ষক, পুরসভা, পঞ্চায়েত সহ অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের জন্য ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা পান ১৮ শতাংশ হারে ডিএ। যদিও কেন্দ্রীয় কর্মীরা পাচ্ছেন ৫৫ শতাংশ। এই হিসাবে ফারাক দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় কয়েক মাস আগে রাজ্যে ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানো হলেও, কেন্দ্রীয় হারের ধারে কাছে পৌঁছায়নি রাজ্য। আজ বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রর বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে।
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন মঞ্জুর করে আরও সময় দেয় কি না, বা চূড়ান্ত কোনও রায় জানায় কি না, তার দিকেই নজর রয়েছে আন্দোলনকারীদের। আদালত যদি রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে, তবে আরও বাড়বে নবান্নের চাপ। অন্যদিকে, সময় পেলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে রাজ্যের পক্ষ থেকে।
