ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার পার্ক স্ট্রীটে হাড়হীম করা কান্ড। পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলের খাট থেকে উদ্ধার হয়েছে যুবকের পচা গলা দেহ। জানা গেছে, এক দম্পতি বৃহস্পতিবার পিকনিক গার্ডের একটি হোটেলে থাকার জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। শক্রবার সকালে ঘরের ভিতর থেকে দুর্ঘন্ধ আসতে হোটেল কর্মীর সাহায্যে খাটের ভিতর থেকে বের হয় পচা দেহ। মৃত ব্যাক্তির নাম রাহুল লাল।
পুলিশ সুত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ঐ দম্পতি হোটেলে আসেন। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা ঘরে বাজে দুর্ঘন্ধ পেয়ে হোটেল কতৃপক্ষকে জানান এবং হোটেল এর সাফাই কর্মী সারা ঘর খুঁজে কিছু না পেলে শেষে ঘরের খাট খুলতেই চমকে উঠেন তাঁরা। দেখেন যে বিছানায় তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন তার নিচেই রয়েছে একটি দেহ। মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশকে খবর দেয় হোটেল। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালে পুলিশ জানায়, মদ্যম অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতেছে রাহুলকে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল পিকনিক গার্ডেনে তাঁর মামার কাছে থাকতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট সহ শহরের বিভিন্ন থানায় চুরি ও অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাহুল নিজের ভাইয়ের আধার কার্ডের কপি ব্যবহার করে হোটেলে চেক ইন করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাহুল দুই সঙ্গীকে নিয়ে রফি আহমেদ কিদওয়াই হোটেলে যায়। কয়েক ঘণ্টা ঘর ভাড়া নেওয়ার পর সন্ধ্যায় তারা মদ্যপান শুরু করেন। হোটেলের সিসিটিভিতে দেখা গেছে, রাতের দিকে একজন বাইরে যায় এবং পরবর্তীতে ঘরে ফিরে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে দু’জন একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে হোটেলের বাইরে চলে যায়।
পুলিশের অনুমান, মদ্যপানের সময়ই রাহুলকে গলায় কাপড় জড়িয়ে হত্যা করা হয় এবং দেহটি বক্স খাটের মধ্যে রাখা হয়। রাহুলের মোবাইল ট্র্যাকিং থেকে জানা গেছে, দুই আততায়ীই ওড়িশার বাসিন্দা। হত্যার রাতে ঘরের মেঝে থেকে রক্ত বের হতে থাকে, কিন্তু হোটেলের সাফাইকর্মীরা তা অন্য কোনো তরল মনে করে মুছে ফেলে। পরের রাতে একটি দম্পতি একই ঘরে চেক ইন করেন এবং বিছানার নিচে লাশ থাকা সত্ত্বেও কিছু বুঝতে পারেননি। শুক্রবার সকালে পচা গন্ধ বের হওয়ার পর হোটেল কর্মীরা বক্স খাট খুলে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান।
পুলিশের ধারণা, পূর্বের পরিচয় এবং টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে দুই আততায়ী হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিল। রাহুলকে অতিরিক্ত মদ্যপান করিয়ে খুন করা হয়। হত্যার পর দুই আততায়ী ওড়িশা বা অন্য ভিনরাজ্যে পালিয়েছে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধান চলছে।
