ওঙ্কার ডেস্ক: ফের রাজধানির বুকে ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকান্ড। দিল্লির নরেলা এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হল পাঁচ বছরের এক শিশু। মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলতে খেলতে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি। পরিবারের তরফে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও সন্ধ্যা নামতেই বাড়ে উদ্বেগ। শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকার নামতেই মেলে হৃদয়বিদারক খবর স্থানীয় এক ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির ক্ষতবিক্ষত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রতিশোধই মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির বাবা পেশায় গাড়ির ব্যবসায়ী। তাঁর অধীনে কাজ করতেন দুইজন চালক, নিতু এবং ওয়াসিম। সূত্রের দাবি, সোমবার নিতু এবং ওয়াসিমের মধ্যে বচসা বাধেঁ। পরে শিশুটির বাবার সঙ্গেও নীতুর ঝামেলা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। সেই ঘটনার পর থেকেই নীতু নিখোঁজ ছিল। পুলিশ মনে করছে, এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মঙ্গলবার ওই শিশু অপহরণ এবং পরবর্তীতে খুন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল নরেলা থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দল গঠন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত চালক। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নীতুকে জেরা করলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে মনে করছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিকেলের দিকে শিশুটিকে বাড়ির সামনে খেলতে দেখা গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর থেকেই সে উধাও হয়ে যায়। প্রথমে পরিবার ধরে নেয়, হয়তো কাছাকাছি কারও বাড়িতে আছে। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, খবর দেওয়া হয় থানায়। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার করে শিশুটির মরদেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শিশুটিকে প্রথমে ইঁট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। তার দেহে একাধিক ছুরির ক্ষতও দেখা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। শিশুটির পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। জোর কদমে পুলিশি তদন্ত চলছে।
