ওঙ্কার ডেস্ক: রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার কাছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। সোমবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর একের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়িতে। এই ভয়াবহ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আটজন, আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের এলএনজেপি ও এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বারতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ, এনআইএ, এনএসজি কম্যান্ডো এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে, চলছে তল্লাশি ও প্রমাণ সংগ্রহ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই এলাকায় পার্ক করে রাখা ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই গাড়ির মালিক সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। গাড়িটি কীভাবে ও কার মাধ্যমে বিস্ফোরকের নাগালে এল, তা এখন তদন্তের অন্যতম মূল দিক।
এদিকে তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। দিল্লি পুলিশ ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুতের সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের যোগ থাকতে পারে। ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া উপকরণ ও লালকেল্লার বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে মিল খুঁজছে ফরেন্সিক দল। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, একই গোষ্ঠী বা নেটওয়ার্ক কি এই দুই ঘটনার পিছনে সক্রিয় ছিল।
সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদান দেখে গোয়েন্দারা জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছেন। এই সংগঠনের পূর্ববর্তী কার্যপদ্ধতি ও দিল্লি ঘটনার মধ্যে একাধিক মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। জানা গেছে, বিস্ফোরণের দিন সন্দেহজনক গাড়িটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সুনেহরি মসজিদ এলাকার কাছে পার্ক করে রাখা ছিল। পরে সেটি লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের দিকে আসে। গোয়েন্দাদের অনুমান, এটি পরিকল্পিত বিস্ফোরণ হতে পারে।
ঘটনার পর দিল্লিজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সমস্ত মেট্রো স্টেশন, বাজার এলাকা, রেলওয়ে টার্মিনাল ও সরকারি দফতরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এনআইএ ও দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল একযোগে কাজ করছে, সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে।
স্বাধীনতার প্রতীক লালকেল্লা, যেখানে প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী জাতিকে ভাষণ দেন, সেই এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানো গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে। রাজধানীর বুকের এমন ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।
প্রশাসন এখনো কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না সন্ত্রাসের ছায়া রয়েছে তদন্তের আওতায়। জায়গায় জায়গায় চলছে পুলিশি তল্লাশি। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এই ঘটনার পর দিল্লিজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। রেলওয়ে স্টেশন, বাজার, মেট্রো, ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অনান্য মেট্রোপলিটন শহর গুলিতেও চলছে নজরদারি। কলকাতা, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর-এর মত শহরে চঅলছে কড়া নিরাপত্তা।
