ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ড তদন্তে এবার রাজধানীর একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে তল্লাশি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, বিস্ফোরণের ঘটনায় যে ‘ডাক্তার মডিউল’-এর সূত্র মিলেছে, তার আরও সদস্য এখনো শহরে সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই বিশেষ নোটিস পাঠিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদেশে চিকিৎসাশিক্ষা পাওয়া চিকিৎসকদের সম্পূর্ণ নথি, কর্মজীবনের তথ্য, পরিচয়পত্র, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিদেশ সফর–সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে।
লালকেল্লার কাছে এই মাসের শুরুতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়িবিস্ফোরণের পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা তদন্ত শুরু করে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ও সন্দেহভাজনদের মধ্যে একাধিক চিকিৎসক থাকার সম্ভাবনা প্রকট হওয়ায় তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ আরও গভীর হয়। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নথি এবং ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের ধারণা, বিস্ফোরণ মডিউলে আরও কয়েকজন চিকিৎসক সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে যাঁরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বা চীনে চিকিৎসাশিক্ষা পেয়েছেন, তাঁদের কিছু যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন তদন্তে উঠে আসায় পুলিশ সরাসরি হাসপাতালগুলোকেই তথ্যদাতার ভূমিকায় চাইছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, বিদেশ থেকে এমবিবিএস বা অন্যান্য ডিগ্রি পাওয়া চিকিৎসকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিতে হবে। এই তথ্য চাওয়া হলেও কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। অনেক হাসপাতাল ইতিমধ্যেই নথি সংগ্রহ শুরু করেছে, তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে অযথা আতঙ্ক বা ভুল ব্যাখ্যা না ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে যারা চিকিৎসক ছিলেন, তাঁরা নিজেদের পরিচয় ও পেশার আড়ালেই সমস্ত পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মেডিক্যাল কলেজের পুরনো যোগাযোগ, বিদেশে পড়াশোনার সময় তৈরি হওয়া নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বারবার হাসপাতাল বদলের ইতিহাস এই সব এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশের সন্দেহ, বিস্ফোরণের আগে ও পরে কিছু চিকিৎসকের আচরণ, উপস্থিতি এবং অনিয়মিত শিফট বদল সন্দেহজনক। তাই এই নথিগুলো গোটা জাল ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহায়তা করছে। তবে পেশাগত নৈতিকতা ও রোগীর আস্থা বজায় রেখে তদন্তকারীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করা হবে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি কীভাবে সামলানো হবে, সেই বিষয়ে হাসপাতালগুলির মধ্যে আলাপ-আলোচনাও চলছে।
এই তল্লাশি ও তথ্যসংগ্রহ শুরু হওয়ায় বিস্ফোরণ মামলাটি আরও ব্যাপক তদন্তের পথে এগোচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, এই তথ্যানুসন্ধানই হয়তো ‘ডাক্তার মডিউল’-এর অদৃশ্য অংশগুলিকে সামনে আনবে এবং বিস্ফোরণের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কটি উন্মোচিত করতে সাহায্য করবে। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি পুলিশের।
